নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে ফজলুল রহিম কাজল (৫৫) নামের এক সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিরামপুর গ্রাম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। তাঁর গলায় রশি লাগানো ছিল। তবে তাঁর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম জবান আলী। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি নিজ উপজেলায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৭ অক্টোবর সকালে প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এক ব্যক্তি কংস নদের পাড়ে গরু চরাতে গেলে আশপাশে পচা গন্ধ পান। পরে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় কাজলের মরদেহ দেখতে পান তিনি। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, গত ৭ অক্টোবর সকালে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন কাজল। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
তিনি বলেন, “এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। তাঁর মরদেহ গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত অবস্থায় নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহের শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। পরনের পোশাকও খুব একটা এলোমেলো ছিল না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
জ/উ