শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যে ৫ খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফ স্টাইল

2026-10-07T19:40:11+06:00
2026-10-07T19:40:11+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
লাইফ স্টাইল
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যে ৫ খাবার
লাইফস্টাইল ডেস্ক
⏲ ৭:৪০ পিএম | ৭ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবার
সংগৃহীত ছবি
তাপমাত্রা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দিনও ছোট হয়ে যায়। দ্রুত অন্ধকার নেমে আসায় ঠান্ডা মৌসুমে কাশি, সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন হয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার যুক্ত করে এ ক্ষেত্রে শরীরকে সহায়তা করা সম্ভব।

সুস্থ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণু ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। অবশ্য কোনো একটি খাবারই সব রোগের নিরাময় নয়। তবে কিছু খাবারে থাকা পুষ্টি ও উপকারী উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ঠান্ডা আবহাওয়ায় সুস্থ ও সবল থাকার সুযোগ বাড়ে।

লেবুজাতীয় ফল
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ফলের কথা উঠলে কমলা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো সাইট্রাস ফলের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব কোষ প্রয়োজনীয়।

ভিটামিন সি সর্দি-কাশির সময়কাল কমাতেও সহায়তা করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে সাইট্রাস ফল যুক্ত করা যেতে পারে। সকালে এক গ্লাস কমলার রস, চায়ের সঙ্গে লেবুর টুকরো কিংবা নাশতায় জাম্বুরা খাওয়ার মাধ্যমে দৈনিক ভিটামিন সি গ্রহণ বাড়ানো সম্ভব।

রসুন
প্রাকৃতিকভাবে সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক উপাদান হিসেবে রসুনের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। বহু শতাব্দী ধরে এর ঔষধি গুণের জন্য রসুন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে অ্যালিসিনের মতো যৌগ রয়েছে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করা কোষগুলোকে উদ্দীপিত করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সহায়তা করতে পারে।

রসুনের উপকারিতা পেতে সস ও ড্রেসিংয়ে কাঁচা রসুন ব্যবহার করা যায়। রান্নার বিভিন্ন পদেও এটি যোগ করা সম্ভব। রসুন যতটা সম্ভব তাজা অবস্থায় ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ। রান্নার আগে রসুন থেঁতো বা কুচি করে কয়েক মিনিট রেখে দিলে এর স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়।

আদা
আদার ব্যবহার শুধু খাবারে ঝাঁঝালো স্বাদ যোগ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্যও এটি পরিচিত। গলা ব্যথা উপশম, বমি বমি ভাব কমানো এবং শরীরের প্রদাহ মোকাবিলায় আদা প্রচলিতভাবে ব্যবহার করা হয়। এসব উপকারিতা সুস্থ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখতেও সহায়ক হতে পারে।

স্যুপ, স্টু কিংবা প্রতিদিনের স্মুদিতে আদা যোগ করা যেতে পারে। শীতের সময়ে আদা চাও একটি জনপ্রিয় পানীয়। এটি শরীরকে উষ্ণতা দেওয়ার পাশাপাশি খাবারে স্বতন্ত্র ঝাঁঝালো স্বাদও যোগ করে।

দই
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক হলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ অন্ত্র ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বা সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করা ঠেকাতে সহায়তা করতে পারে।

দইকে আরও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর করতে এর সঙ্গে সামান্য মধু বা তাজা ফল মিশিয়ে খাওয়া যায়। খাদ্যতালিকায় এই সহজ সংযোজন হজম প্রক্রিয়া সচল রাখার পাশাপাশি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে।

পালং শাক
পালং শাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিনসহ নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সহায়তা করতে পারে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতে পারে।

পুষ্টিগুণ বাড়াতে সালাদ, স্যুপ কিংবা স্মুদিতে পালং শাক যোগ করা যায়। আবার হালকা আঁচে রান্না করলেও এর কিছু পুষ্টিগুণ শরীরের জন্য সহজলভ্য হতে পারে। বিশেষ করে এতে থাকা ভিটামিন এ-এর পরিমাণ বাড়তে এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান মুক্ত হতে পারে। ফলে শীতের খাদ্যতালিকায় পালং শাকও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী একটি খাবার হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত