মাদারীপুরের কালকিনিতে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে ৭০ বছর বয়সী সৌদি ফেরত প্রবাসী হাবিবুর রহমান ওরফে হাবলু শিকদারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই পুড়ে যায় হাবলু শিকদারের বসতঘর। এ ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিনে জানা যায়, নদীভাঙনের শিকার হাবিবুর রহমান ওরফে হাবলু শিকদার প্রায় ১০ বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে কালকিনির চর সাহেবরামপুর গ্রামে জমি কিনে সেখানে দোতলা টিনের ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু নতুন ঠিকানায় বসবাস শুরুর পরও জমি নিয়ে প্রতিবেশী কামাল মালের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরে ২০২২ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন হাবলু। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও জোরালো হয় বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে কামাল মালের প্রতিবেশী পাঁচ বছরের এক শিশুকে কেন্দ্র করে হাবলু শিকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। গত ২ অক্টোবর এ ঘটনার তিন দিন পর, সোমবার বিকেলে বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সালিশে হাবলু শিকদার উপস্থিত না হওয়ায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ লোকজন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই আগুনে পুড়ে যায় হাবলুর বসতঘর ও পরিবারের মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়।
তবে হাবলু শিকদারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকার কথা স্বীকার করলেও তার বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ কামাল মালের স্ত্রী সুমি বেগম। তার দাবি, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজনই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তারা কেউ জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, গত ৫ অক্টোবর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে কালকিনি থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী হাবলু শিকদারের স্ত্রী দোলোয়ারা বেগম। অন্যদিকে, শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হাবলু শিকদারকে একমাত্র আসামি করে মঙ্গলবার সকালে কালকিনি থানায় মামলা করেছে শিশুটির পরিবার।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগেও আরেকটি মামলা নেওয়া হয়েছে। উভয় মামলা প্রাথমিক তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হওয়াই প্রত্যাশিত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এ ধরনের জনতার মাধ্যমে বিচার বা ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কাম্য নয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জ/উ