আগামী দিনের বাংলাদেশ তরুণ প্রজন্মই নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে তরুণদের এখন থেকেই জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। শুধু অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি অর্জন নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ‘তৃতীয় ইউএমএসএআইএলএস-ইউএপি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, একজন আইনজীবী কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করার সময় তার ওপর বড় ধরনের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব বর্তায়। আইন পেশায় সামান্য একটি ভুলও অনেক মানুষের জীবন ও অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আইন শিক্ষার্থীদের শুধু আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; তাদের সততা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের আইন পেশার ধরন বর্তমান সময়ের মতো থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আইনগত গবেষণা, নথি বিশ্লেষণসহ পেশাগত বিভিন্ন কাজের ধরন দ্রুত পরিবর্তন করে দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে তা দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তবে প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করতে পারলেও মানুষের বিচার-বিশ্লেষণ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের বিকল্প হতে পারে না।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, আগামী দিনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে তরুণ প্রজন্ম। এ কারণে তাদের এখন থেকেই প্রযুক্তি, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউএপির আইন বিভাগের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এবং ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাইদ মোস্তাক আহমেদ।
তৃতীয় ইউএমএসএআইএলএস-ইউএপি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইউএপির বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ