ওজন কমলে চর্বি যায় কোথায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফ স্টাইল

2026-10-03T11:05:42+06:00
2026-10-03T11:05:42+06:00
শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
লাইফ স্টাইল
ওজন কমলে চর্বি যায় কোথায়?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
⏲ ১১:০৫ এএম | ৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবার
সংগৃহীত ছবি
ওজন কমানোর সময় শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়-ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যায়, নাকি মলমূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়? অনেকের মনেই থাকা এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরীরের জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষকের ব্যাখ্যায় জানা যায়, চর্বি কমার পর এর বড় একটি অংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বাকি অংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

শরীরে চর্বি জমে যেভাবে
আমরা যেসব চর্বিযুক্ত খাবার খাই, তা পাচনতন্ত্রে গিয়ে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হয়। শরীর এসব ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি অংশ কোষ তৈরির কাজে, হরমোন নিয়ন্ত্রণে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সুরক্ষায় ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে ফ্যাট সেলে জমা থাকে।

শরীরে যখন বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হয়, তখন এই সঞ্চিত চর্বি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সাধারণত চর্বি চামড়ার নিচে এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গের আশপাশে জমা হয়।

ডায়েট বা শরীরচর্চার ফলে যখন খাবার থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি পুরোপুরি মেলে না এবং ক্যালরির ঘাটতি তৈরি হয়, তখন হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে ফ্যাট সেলগুলো সক্রিয় হয়। এরপর সঞ্চিত চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যাকে বলা হয় লাইপোলাইসিস।

চর্বি ভেঙে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি
ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙে তৈরি হওয়া ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করে। সেখানে বিটা-অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়।

এই রাসায়নিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে মূলত দুটি উপজাত তৈরি হয়-কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি। এরপর শরীর এসব পদার্থ বিভিন্ন উপায়ে বাইরে বের করে দেয়।

চর্বির বড় অংশ বের হয় শ্বাসের সঙ্গে
অনেকের ধারণা, শরীরের মেদ কমার অর্থ হলো বেশি ঘাম ঝরা। তবে গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চর্বি কমার পর এর বড় অংশ ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস ছাড়ার সময় শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। শ্বাস ছাড়ার সময় সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশে যায়। আর বাকি ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে শরীর থেকে বের হয়। এর একটি অংশ ঘাম, প্রস্রাব ও অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়।

বেশি শ্বাস নিলেই কি চর্বি কমবে?
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, দ্রুত বা বেশি করে শ্বাস ছাড়লে কি শরীরের চর্বি দ্রুত কমবে? এর উত্তর হলো-না।

দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা ছাড়ার মাধ্যমে সরাসরি শরীরের চর্বি গলে যায় না। শ্বাস-প্রশ্বাস মূলত চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড শরীর থেকে বের করে দেওয়ার একটি পথ।

শরীরকে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহারে বাধ্য করার জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, শুধু বেশি শ্বাস নেওয়া নয়-খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়েই শরীরের জমে থাকা চর্বি কমানোর প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত