ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। অন্যান্য সুন্নত নামাজের তুলনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই রাকাতের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতেন। বিভিন্ন হাদিসে এর ফজিলত বর্ণনার পাশাপাশি নিয়মিত এই নামাজ আদায়ের ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম: ৭২৫)
অন্য একটি হাদিসে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের প্রতি এমন গুরুত্ব দিতেন, যা অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামাজের ক্ষেত্রে দেখা যেত না। (বোখারি: ১১৬৩, মুসলিম: ৭২৪)
আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাজ পড়লেন। তারপর আট রাকাত নামাজ পড়লেন। তারপর বসে দুই রাকাত। তারপর আজান ও ইকামতের মধ্যে দুই রাকাত। এই দুই রাকাত তিনি কখনো বাদ দিতেন না।’ (বোখারি: ১১৫৯)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা এই দুই রাকাত কখনো ত্যাগ করো না, শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও।’ (আবু দাউদ: ১২৫৮)
এ ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘তোমরা ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত)-এর ব্যাপারে পুরোপুরি যত্নবান হও। কারণ তা ফজিলতপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৫৫৪৪)
এসব হাদিস থেকে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের মর্যাদা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তাই বিশেষ কোনো ওজর বা কারণ ছাড়া এই সুন্নত নামাজ ছেড়ে না দেওয়াই উচিত।
সুন্নত ছুটে গেলে কী করবেন
তবে বিভিন্ন কারণে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সময়মতো আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। যেমন, কেউ মসজিদে গিয়ে দেখলেন ফজরের ফরজের জামাত শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়তে গেলে ফরজের জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। আবার ঘুম বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে ফজরের সুন্নত আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সুন্নত নামাজটি একেবারে ছেড়ে দিতে হবে, নাকি পরে আদায় করা যাবে-এ বিষয়ে হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসও উল্লেখ করা হয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত (সময়মতো) পড়েনি, সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে নেয়।’ (তিরমিজি: ৪২৩, মুসতাদরাকে হাকেম: ১০৫৩)
ফজরের সুন্নত ছুটে যাওয়ার পর তা আদায়ের বিষয়ে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর আমলেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। নাফে (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ফজরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পান, জামাত শুরু হয়ে গেছে। তখন তিনি ফজরের সুন্নত আদায় না করে জামাতে শরিক হন। ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি মসজিদে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। সূর্যোদয় হয়ে গেলে তিনি দুই রাকাত সুন্নত কাযা করে নেন।
সুতরাং কোনো বিশেষ কারণে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নির্ধারিত সময়ে আদায় করা সম্ভব না হলে তা অবহেলায় ছেড়ে না দিয়ে পরবর্তী সময়ে আদায় করে নেওয়ার বিষয়ে হাদিস ও সাহাবির আমল থেকে নির্দেশনা পাওয়া যায়।
জ/উ