জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ত্বকের রোগ, বলছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফ স্টাইল

2026-10-03T18:37:39+06:00
2026-10-03T18:37:39+06:00
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
লাইফ স্টাইল
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ত্বকের রোগ, বলছে গবেষণা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
⏲ ৬:৩৭ পিএম | ৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবার
সংগৃহীত ছবি
নিয়মিত প্রসাধনী পরিবর্তন করেও ত্বকের র‍্যাশ ও প্রদাহ কমছে না? এর পেছনে শুধু জীবনযাত্রার ভুল নয়, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনেরও ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও পরিবেশদূষণের কারণে ত্বকের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ ও ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত কিংবা পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের ত্বকেও। মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও বাইরের পরিবেশের মধ্যে প্রথম সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে ত্বক। ফলে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যালোক ও বায়ুদূষণের সরাসরি সংস্পর্শে আসে এই অঙ্গটি।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকের রোগের প্রকোপ ও তীব্রতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

ইউরোপিয়ান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থাপিত ওই গবেষণায় বিশ্বের ১৩৬টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে অংশ নেওয়া ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকের রোগ বৃদ্ধির সম্পর্কের কথা জানিয়েছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে হিট র‍্যাশ বা গরমে হওয়া ত্বকের ফুসকুড়ির বিষয়টি উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ত্বকের সমস্যার কথা উল্লেখ করা ৫৮টি দেশের মধ্যে ৮১ শতাংশ দেশেই হিট র‍্যাশের প্রকোপ বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ দেশে প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যাও বেড়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ঘাম ও ত্বকের অস্বস্তি বাড়ে। অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি বায়ুদূষণও ত্বকের প্রদাহ বাড়াতে পারে। আবার তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এলে মশা, টিকসহ বিভিন্ন রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার বাড়তে পারে। এর ফলে এসব বাহকের মাধ্যমে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সব দেশে সমান নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ জলবায়ু-সম্পর্কিত ত্বকের রোগ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই হার ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক প্রভাবগুলোর মধ্যে ত্বকের স্বাস্থ্যঝুঁকিকেও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি এককভাবে কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতার অংশ হিসেবে বাইরে বের হওয়ার সময় সরাসরি সূর্যালোক, ধুলো ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত