আগামী বছরের দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া। এরই মধ্যে আইসিসি বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের মূল সময়সূচি, ফরম্যাট ঘোষণা করেছে। টুর্নামেন্টের এক বছরের বেশি সময় বাকি থাকতেই ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার রোহিত শর্মা নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা পোষণ করেছেন।
সুনীল গাভাস্কার জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে রোহিত শর্মা ৯২ রানে আউট হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাবেন এবং নিজের বয়সের সংখ্যার চেয়েও বেশি ওয়ানডে সেঞ্চুরি নিয়ে অবসর নেবেন।
রোহিত এখন পর্যন্ত ৩৫টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছেন এবং সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩৬তম সেঞ্চুরিটি করার সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচ উইকেটে জয় পেয়েছে। এ ম্যাচে অধিনায়ক শাই হোপ অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংস খেলেন।
জিওস্টার-এর সাথে আলাপকালে গাভাস্কার বলেন, ৯২ রানে রোহিতের আউট হওয়াটা হতাশাজনক ছিল; কারণ আরেকটি সেঞ্চুরি তাকে এমন এক মাইলফলকের কাছাকাছি নিয়ে যেত, যা তিনি অবসরের আগে রোহিতকে স্পর্শ করতে দেখতে চান।
এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলেন, রোহিত ৯২ রানে আউট হওয়ায় আমি হতাশ হয়েছিলাম কারণ তিনি সেঞ্চুরি পাননি। তাছাড়া, ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর তিনি হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাইব রোহিতের ওয়ানডে সেঞ্চুরির সংখ্যা যেন তার বয়সের চেয়ে বেশি হয়। তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেলে তিনি ৩৬তম সেঞ্চুরির মাধ্যমে সেই অর্জনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যেতেন।
গাভাস্কার জানান, অবসরের সময় একজন খেলোয়াড়ের বয়স এবং তার করা সেঞ্চুরির সংখ্যার তুলনাকে তিনি সবসময়ই খেলোয়াড়ের দীর্ঘস্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে এসেছেন। তিনি বলেন, আমার কাছে এটি একটি বিশেষ বিষয় যখন কোনো খেলোয়াড়ের সেঞ্চুরির সংখ্যা অবসরের সময়ের বয়সকে ছাড়িয়ে যায়। এটি তাদের ক্যারিয়ারের ধরন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা মানদণ্ডকে তুলে ধরে।
গাভাস্কার ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে রোহিতের ব্যাটিংয়ে আসা পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন। ওই টুর্নামেন্টে অধিনায়ক হিসেবে রোহিত নিয়মিতভাবেই ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতেন; ভারতকে দ্রুত সূচনা এনে দেয়ার বিনিময়ে তিনি নিজের উইকেট হারানোর ঝুঁকিও নিতেন।
গাভাস্কারের মতে, রোহিত এখন নিজের উইকেটের মূল্য দিতে এবং ভালো শুরুকে বড় স্কোরে রূপান্তর করতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। গাভাস্কার বলেন, ২০২৩ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে রোহিত নিজেই ব্যাটিংয়ের ধরন বা ‘টেমপ্লেট’ তৈরি করেছিলেন, তাতে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। তখন দ্রুত আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতেন। এখন তিনি বুঝতে পেরেছেন তার উইকেটটি মূল্যবান।
ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, একবার ক্রিজে থিতু হয়ে গেলে রোহিতের মতো ব্যাটারের ৩০ বা ৪০ রানে সন্তুষ্ট থাকা উচিত নয়। সে এমন একজন খেলোয়াড় যে অনায়াসেই সেঞ্চুরি করতে পারে! তাই তাকে বড় রান করতে দেখে আমি আনন্দিত। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুত সেঞ্চুরি করার রোহিতের সক্ষমতা ভারতের জন্য একটি বড় সুবিধা।
জ/রা