সাত বছর ধরে অচল ১৯ কোটি টাকার পোনা বিক্রয় কেন্দ্র

জবাবদিহি ডেস্ক

দেশজুড়ে

দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ রেণু পোনা সরবরাহকারী যশোর সদরের চাঁচড়ার ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত পোনা বিক্রয় কেন্দ্রটি সাত বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছেন।

2026-09-07T09:54:54+06:00
2026-09-07T09:54:54+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
সাত বছর ধরে অচল ১৯ কোটি টাকার পোনা বিক্রয় কেন্দ্র
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৯:৫৪ এএম | ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবার
সাত বছর ধরে অচল ১৯ কোটি টাকার পোনা বিক্রয় কেন্দ্র
দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ রেণু পোনা সরবরাহকারী যশোর সদরের চাঁচড়ার ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত পোনা বিক্রয় কেন্দ্রটি সাত বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, চাঁচড়া এলাকার হ্যাচারি ও নার্সারিতে প্রতি বছর প্রায় ৬৮ হাজার কেজি রেণু পোনা উৎপাদিত হয়। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ২০১৯ সালে বাবলাতলা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে আধুনিক দ্বিতল ভবন, চৌবাচ্চা ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। তবে শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪-৫ জন সেখানে বসছেন।

আসামিকে ছাড় দিয়ে বিদেশে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগ মাদকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
আলতাফ হোসেন নামে এক পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ভবন পাওয়ার পর আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর দেখলাম গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বড় ট্রাক বা পিকআপ দাঁড় করানোর মতো জায়গা না থাকলে আমরা মালামাল লোড-আনলোড করব কীভাবে?

হ্যাচারি মালিক ও ব্যবসায়ী বাবুল আক্তার বলেন, রেণু পোনা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে মাছ রাখার চৌবাচ্চাগুলো অপ্রতুল। সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি সরবরাহ। মাটির স্পর্শ ও পর্যাপ্ত ভালো পানির প্রবাহ না থাকলে রেণু পোনা দ্রুত মারা যায়। এই ভবনের চৌবাচ্চায় পোনা বাঁচিয়ে রাখা কঠিন।

নার্সারি পোনা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে এত বড় ভবন বানিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। আমাদের মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না করে কেনাবেচার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ভোরে বেনাপোল প্রধান সড়কের ওপর আমরা হাট বসাচ্ছি।

ব্যবসায়ীদের মতে, কেন্দ্রটিতে পানি সরবরাহে মারাত্মক জটিলতা রয়েছে। আয়রনযুক্ত পানির কারণে রেণু পোনা বেশিক্ষণ তাজা রাখা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া মাটির প্রাকৃতিক ছোঁয়া ছাড়া রেণু পোনা বাঁচানো কঠিন হওয়ায় তারা নতুন এই কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, কেন্দ্রটিতে বর্তমানে পানি সংকট ও আয়রনের সমস্যা রয়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি অনেক মৎস্য চাষি সরাসরি পুকুরপাড়ে বা খোলা জায়গায় কেনাবেচায় অভ্যস্ত হওয়ায় কেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল করা যাচ্ছে না।


জ/রা


  বিষয়:   যশোর  রেণু পোনা  ভবন  পরিত্যক্ত 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত