ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের পর মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের একটি কুখ্যাত যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া ছয় বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে পুনের বুধবার পেথ এলাকার একাধিক নিষিদ্ধ পল্লিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে দুই দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন-১) ঋষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খাদক থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ দল গঠন করা হয়। বুধবার ভোরে দলটি বুধবার পেথ এলাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি যৌনপল্লিতে একযোগে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে বন্দিদশায় থাকা ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের পর ফারাসখানা থানায় মানবপাচার চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় চার মাস আগে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়া হয়। তাঁদের কারও কাছেই বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন আধুনিক শহরে আকর্ষণীয় চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। পরে পুনেতে নিয়ে যৌনপল্লির সর্দারনিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের জোর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বুধবার পেথ এলাকাকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার একটি যৌনপল্লি থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ। তাঁদের ক্ষেত্রেও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পার করে ভারতে আনার পর জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নিয়োজিত করার অভিযোগ উঠেছিল। হয়েছিল।
জ/শা