২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান পেয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার ‘জোহান ক্রুইফ ট্রফি’। গত বছর এই পুরস্কার জিতেছিলেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কোচ লুইস এনরিকে।
লা ফুয়েন্তের অধীনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেন জাতীয় দল একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৩ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের পর ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তোলে দলটি। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে স্পেন। ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনাল লা ফুয়েন্তের কোচিং ক্যারিয়ারে যোগ করে অন্যতম বড় সাফল্য।
তাঁর কোচিংয়ে স্পেনের খেলার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, দ্রুত আক্রমণ, তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং দলীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সঙ্গে উদীয়মান প্রতিভাদের সমন্বয় ঘটিয়ে শক্তিশালী দল গড়ে তুলেছেন এই কোচ।
স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দলটি ২২টি ম্যাচ খেলে ১৮টিতে জয় পেয়েছে এবং চারটিতে ড্র করেছে। এ ছাড়া লা ফুয়েন্তের অধীনে টানা ৪৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকার কৃতিত্বও রয়েছে স্পেনের।
২০১৩ সালে স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনে যোগ দেন লা ফুয়েন্তে। পরে অনূর্ধ্ব-২১ ও অলিম্পিক দলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালে দায়িত্ব পান জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে। বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জাতীয় দল গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের জন্য লা ফুয়েন্তের পাশাপাশি মনোনয়ন পেয়েছিলেন পিএসজির লুইস এনরিকে, আর্সেনালের মিকেল আর্তেতা, অ্যাস্টন ভিলার উনাই এমেরি এবং বায়ার্ন মিউনিখের ভিনসেন্ট কোম্পানি।
জ/শা