কন্যাসন্তানের ব্যাপারে কি বলে আল কোরআন

জবাবদিহি ডেস্ক

ইসলাম ও জীবন

কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে পবিত্র কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে তার মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে ইসলামে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

2026-10-14T20:23:36+06:00
2026-10-14T20:23:36+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
ইসলাম ও জীবন
কন্যাসন্তানের ব্যাপারে কি বলে আল কোরআন
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৮:২৩ পিএম | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবার
ছবি- জবাবদিহি
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে পবিত্র কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে তার মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে ইসলামে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

পবিত্র কোরআনের সুরা আশ-শূরার ৪৯-৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন। আবার কাউকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং কাউকে নিঃসন্তান রাখেন। অর্থাৎ সন্তান ছেলে হবে, নাকি মেয়ে- তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য মাকে দোষারোপ করা অন্যায়।

ইসলামপূর্ব আরব সমাজে কন্যাসন্তানের জন্মকে লজ্জার বিষয় মনে করার প্রবণতা ছিল। সুরা নাহলের ৫৮-৫৯ নম্বর আয়াতে এ মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,

অর্থ- আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে প্রচণ্ড মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।

আর সুরা তাকভিরের ৮-৯ নম্বর আয়াতে জীবন্ত সমাহিত কন্যাশিশুকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হয়েছে। এসব আয়াত কন্যাশিশুর প্রতি অবজ্ঞা ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়।

কন্যাসন্তানকে ভালোভাবে লালন-পালনের প্রতিদান সম্পর্কেও হাদিসে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ২৬৩১ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি মেয়েকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালনকারীর জন্য কিয়ামতের দিন নিজের সান্নিধ্যের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাই মেয়ের খাবার, পোশাক ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও অভিভাবকের দায়িত্ব।

কন্যাসন্তানের অধিকার রক্ষায় উত্তরাধিকারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষ এবং নারী উভয়েরই একটি নির্ধারিত (অনিবার্য) অংশ রয়েছে, সম্পত্তি অল্প হোক বা বেশি।

বিয়ের ক্ষেত্রেও নারীর সম্মতির গুরুত্ব রয়েছে। সুনান আবু দাউদের ২০৯৬ নম্বর হাদিসে অনিচ্ছায় দেওয়া বিয়ে সম্পর্কে অভিযোগকারী এক নারীর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এ থেকে বিয়েতে নারীর মতামত ও সম্মতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্নিত- এক কুমারী (অবিবাহিতা) যুবতী নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করল যে, তার বাবা তার অসম্মতিতে (অপছন্দ সত্ত্বেও) তার বিয়ে দিয়েছেন। তখন নবী করিম (সা.) সেই মেয়েটিকে পূর্ণ ইখতিয়ার বা অধিকার দিয়েছিলেন- সে চাইলে সেই বিয়ে বহাল রাখতে পারে অথবা তা বাতিল (ফসক) করে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, মোহরানার ব্যাপারে ইসলামে নারীকে পূর্ন অধিকার দিয়েছে। মোহরানা নারীর নিজস্ব অধিকার। 


জ/বা


  বিষয়:   ইসলাম ও জীবন  কন্যা সন্তান  নারীর অধিকার  আল কোরআন 


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত