কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ম.ন.ফ. বিদ্যুৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বালিয়ামারী বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার সুমা আক্তারের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরকারের দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অভিযোগ রয়েছে, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তী সময়ে সুমা আক্তারের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যান বিদ্যুৎ সরকার। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে একটি সন্তানের জন্ম হয়। এ ঘটনায় সুমা আক্তার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে বিদ্যুৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ সরকারের বাবা নজরুল সরকার এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পারিবারিক কলহের কারণে ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুমা আক্তার রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
নজরুল সরকারের ভাষ্য, আদালতের মাধ্যমে সন্তানের দায়িত্ব ও ভরণপোষণের বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ সরকার সন্তানের দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এর মধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়। পরে পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে বিদ্যুৎ সরকার ঢাকায় জুঁই নামের এক নারীকে বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই নারী নারিকেল তেল উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ সরকারের বয়স ৩০ বছর। তিনি রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাউনিয়ার চর মিয়াপাড়া এলাকার নজরুল সরকারের ছেলে।
রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আলম বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বিদ্যুৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”
জ/উ