সকালের শুরুতে এক গ্লাস পানিতে ভেজানো চিয়া সিড-স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অভ্যাস। আকারে ছোট হলেও চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা ধরনের খনিজ উপাদান। তবে প্রশ্ন হলো, চিয়া সিড খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
পুষ্টিবিদদের মতে, চিয়া সিড খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারিত নেই। তবে সকালের নাশতা কিংবা মধ্যসকালের নাশতায় এটি রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সকালে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
সকালে চিয়া সিড খেলে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা প্রচুর খাদ্যআঁশ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে সকালের নাশতায় চিয়া সিড রাখলে দুপুরের খাবারের আগ পর্যন্ত বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমতে পারে।
পানির সংস্পর্শে চিয়া সিড জেলির মতো আকার ধারণ করে। এটি পাকস্থলীতে খাবারের পরিতৃপ্তি বাড়াতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু সকালেই নয়, দিনের যেকোনো সময় চিয়া সিড খেলে এর পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব।
চিয়া সিডের যেসব উপকারিতা
১. পুষ্টিগুণ: চিয়া সিডে রয়েছে খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। পাশাপাশি এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, আয়রন ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়।
২. হৃদযন্ত্রের যত্ন: সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চিয়া সিডের খাদ্যআঁশ ও ওমেগা-৩ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি প্রদাহ কমানো এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এর ভূমিকা থাকতে পারে।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: চিয়া সিডের খাদ্যআঁশ ও প্রোটিন ক্ষুধা কমাতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।
৪. হজমে সহায়তা: চিয়া সিডে থাকা খাদ্যআঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক।
৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: খাদ্যআঁশ খাবার থেকে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিয়া সিডের কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
কীভাবে খাবেন চিয়া সিড?
চিয়া সিড দই, স্মুদি, ওটস, ফল কিংবা পুডিংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এ ছাড়া স্যুপ, সালাদ ও প্যানকেকেও এটি যোগ করা যেতে পারে।
তবে চিয়া সিড খাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা জরুরি-শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়া উচিত নয়। এটি দ্রুত পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। ফলে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চিয়া সিড পানি বা অন্য কোনো তরলে ভিজিয়ে কিংবা দইয়ের মতো আর্দ্র খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই নিরাপদ।
জ/উ