পৃথিবীর জীবনকে মানুষ যতই স্থায়ী মনে করুক, কোরআন তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, একদিন সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। সুরা যিলযাল সেই বাস্তবতাকে অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরেছে। কিয়ামতের ভয়াবহতা, পৃথিবীর পরিবর্তন এবং মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব এই তিনটি বিষয় এ সুরার মূল বার্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মুমিনের জন্য এ সুরায় রয়েছে আত্মশুদ্ধি ও দায়িত্বশীল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
কিয়ামতের বাস্তবতা
সুরার শুরুতেই পৃথিবীর ভয়াবহ কম্পনের কথা বলা হয়েছে। সেদিন পৃথিবী তার ভেতরের সব বোঝা বের করে দেবে এবং মানুষ বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করবে, এর কী হয়েছে? এই বর্ণনা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, কিয়ামত কোনো কল্পকাহিনি নয়; এটি অবশ্যম্ভাবী সত্য। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততার মধ্যেও পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
কাজের হিসাব দিতে হবে
সুরা যিলযালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি হলো মানুষের কোনো কাজই হারিয়ে যাবে না। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সেও তা দেখতে পাবে।
এই শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একটি ছোট ভালো কাজ, কাউকে সহযোগিতা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সুন্দর কথা বলা কিংবা গোপনে দান করা কোনোটিই আল্লাহর কাছে অমূল্য নয়। একইভাবে অন্যায়, প্রতারণা, গিবত, জুলুম কিংবা মানুষের অধিকার নষ্ট করাও উপেক্ষিত হবে না।
ছোট গুনাহকে অবহেলা না করা
মানুষ অনেক সময় বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলেও ছোট ভুলকে গুরুত্ব দেয় না। অথচ সুরা যিলযালের শেষ দুই আয়াত মানুষকে সতর্ক করে দেয় অতি সামান্য কাজও হিসাবের বাইরে থাকবে না। তাই ‘এতটুকু করলে কী হবে’ এমন মানসিকতা একজন মুমিনের জন্য বিপজ্জনক।
গোপন আমলও গুরুত্বপূর্ণ
মানুষের চোখে না পড়লেও আল্লাহর কাছে কোনো আমল গোপন নয়। তাই লোক দেখানোর পরিবর্তে একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করার শিক্ষা দেয় সুরা যিলযাল। গোপনে দান, কারও উপকার করা কিংবা নিরবে ইবাদত করা এসব আমলের মূল্য আল্লাহর কাছে রয়েছে।
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে জবাবদিহি
সুরা যিলযাল মূলত মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। কর্মক্ষেত্রে সততা, পরিবারে দায়িত্বশীলতা, ব্যবসায় ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের অধিকারের প্রতি সচেতনতা সবকিছুর সঙ্গেই পরকালের জবাবদিহির সম্পর্ক রয়েছে।
জ/উ