ফিটনেসের প্রতি বলিউড অভিনেত্রী আলয়া এফের (আলিয়া ফার্নিচারওয়ালা) আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এর আগে তিনবার ৭৫ দিনের ‘৭৫ হার্ড’ ফিটনেস চ্যালেঞ্জ সফলভাবে শেষ করেছেন তিনি। এবার সেই চ্যালেঞ্জকে আরও দীর্ঘ করে ১১৮ দিনের নতুন রুটিন শুরু করেছেন অভিনেত্রী। কেন বারবার এমন কঠিন শৃঙ্খলার মধ্যে নিজেকে রাখেন, সেই কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
‘এইচটি সিটি শোস্টপার্স’-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় আলয়া জানান, আগের তিনবারের চ্যালেঞ্জের দিনগুলো হিসাব করে তিনি দেখেছেন, মোট সময় এক বছরের চেয়ে ১১৮ দিন কম। সেই হিসাব থেকেই এবার ১১৮ দিনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, প্রথমবার ‘৭৫ হার্ড’ চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পর তার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে এই রুটিনের প্রতি তার এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়েছে। এবার আরও বেশি দিন এই চ্যালেঞ্জ চালিয়ে গেলে এটি তাকে কীভাবে বদলে দিতে পারে, সেটিই দেখতে চান তিনি।
‘৭৫ হার্ড’ মূলত মানসিক দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা তৈরির ৭৫ দিনের একটি চ্যালেঞ্জ। এতে টানা ৭৫ দিন প্রতিদিন পাঁচটি নির্দিষ্ট কাজ করতে হয়। কোনো একটি কাজ বা কোনো একটি দিন বাদ পড়লে চ্যালেঞ্জটি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হয় না।
২৮ বছর বয়সী আলয়া জানান, তার প্রথম চ্যালেঞ্জটি হয়েছিল নববর্ষের সময়ে। দ্বিতীয়বার তুলনামূলক নিরপেক্ষ একটি সময়ে এটি করেন তিনি। তৃতীয়বার চ্যালেঞ্জটি চলেছিল দীপাবলি ও বিয়ের মৌসুমে। এবার ১১৮ দিনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে এসব মৌসুমের পাশাপাশি তার জন্মদিনও পড়বে।
আলয়ার মতে, সবচেয়ে বেশি প্রলোভনের সময়েই শৃঙ্খলাবদ্ধ অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। কারণ সাধারণত এসব সময়েই মানুষ নিজের নিয়ম থেকে সরে যায়। নিরপেক্ষ সময়ে নিয়ম মেনে চলা তুলনামূলক সহজ হলেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অভ্যাস ধরে রাখতে পারলে মানসিক দৃঢ়তা আরও বাড়ে বলে মনে করেন তিনি।
নিজের অনুপ্রেরণায় অনেকেই ‘৭৫ হার্ড’ চ্যালেঞ্জ শুরু করেছেন বলেও জানান আলয়া। তাদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক বার্তা তাকে এই রুটিন চালিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করে।
এই ফিটনেস রুটিন তার মানসিক অবস্থাতেও বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানান অভিনেত্রী। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি অনুসরণ করলে তিনি অনেক বেশি মানসিক স্বচ্ছতা অনুভব করেন। এতে তার মন স্বাভাবিকভাবেই ভালো থাকে এবং তিনি নিজের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করতে পারেন। একই সঙ্গে নিজের অন্তর্দৃষ্টির ওপরও বেশি আস্থা তৈরি হয়। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজের অনুভূতিগুলো বুঝতেও তার সুবিধা হয়।
গত দুই বছর ধরে বড় পর্দায় আলয়ার উপস্থিতি দেখা যায়নি। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শ্রীকান্ত’ ছিল তার সর্বশেষ সিনেমা। তবে এই সময়কে কাজহীন সময় হিসেবে দেখছেন না তিনি। আলয়ার দাবি, গত দুই বছরই তিনি জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তার বেশ কিছু কাজ এখনো নীরবে তৈরি হচ্ছে এবং শিগগিরই সেগুলো দর্শকদের সামনে আসবে। তবে এসব কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি।
এই সময় ফিটনেস চ্যালেঞ্জ থেকে পাওয়া মানসিক স্বচ্ছতা পর্দার বাইরে থাকার সময়টিও সামলাতে তাকে সহায়তা করেছে বলে জানান অভিনেত্রী।
আলয়ার সঙ্গে ‘শ্রীকান্ত’ সিনেমা প্রসঙ্গে কথা উঠতেই তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। সম্প্রতি সিনেমাটি সেরা হিন্দি চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে আলয়া বলেন, ‘শ্রীকান্ত’ তার জন্য বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা। ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষ সিনেমা ও গল্পটির সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করেছেন। তারা ছবিটির মধ্যে যে সম্ভাবনা দেখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এই স্বীকৃতিকে বড় সম্মানের বিষয় উল্লেখ করে আলয়া বলেন, নিজের চলচ্চিত্র তালিকায় এমন একটি কাজ রাখতে পেরে তিনি কৃতজ্ঞ। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
জ/উ