লালমনিরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক আইনজীবীর বাড়িতে ভেকু মেশিন দিয়ে হামলা ও ভাঙচুর, তাকে মারধর এবং তার স্ত্রীকে মারধর করে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট শহরে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
হুমায়ুন কবির লালমনিরহাট জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, লালমনিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিডিআরহাট-খোচাবাড়ী এলাকায় তার পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাট আদালতে ল্যান্ড সার্ভে ৬২২/২১ মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আদালতে পেশাগত কাজে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা ভেকু মেশিনসহ তার বাড়িতে যান। পরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে রাস্তা সংলগ্ন গ্রিলের গেট ও প্রায় ২০ গজ ইটের প্রাচীর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদ করলে কয়েকজন তাকে ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। এ সময় লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তা ঠেকাতে গিয়ে তার দুই হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয় বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের কয়েকজন তাকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি বাড়ির একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে কয়েকজন অভিযুক্ত সেখানে ঢুকে তাকে মারধর করেন এবং তার গলায় থাকা প্রায় দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আহত অবস্থায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সোমবারই লালমনিরহাট সদর থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানান আইনজীবী হুমায়ুন কবির।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।