অনলাইনে নিরাপদ থাকতে যে ৫ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি

2026-10-05T19:06:49+06:00
2026-10-05T19:06:49+06:00
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
প্রযুক্তি
অনলাইনে নিরাপদ থাকতে যে ৫ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
⏲ ৭:০৬ পিএম | ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবার
সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট-প্রতিদিনের জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। অসতর্কতার কারণে ছবি, ভিডিও, ফোন নম্বর, ঠিকানা কিংবা ব্যক্তিগত নানা তথ্য চলে যেতে পারে সাইবার অপরাধীদের হাতে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রতারণা থেকে শুরু করে নানা ধরনের সাইবার অপরাধের ফাঁদ পাতছে অপরাধীরা।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। অনলাইনে নিরাপদ থাকতে মূলত পাঁচটি বিষয় মেনে চলা উচিত।

১. অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবেন না
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিটি পদক্ষেপের খবর প্রকাশ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিবারের সদস্যদের তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত না রাখাই নিরাপদ। অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংসে গিয়ে ‘পাবলিক’-এর পরিবর্তে শুধু পরিচিতদের জন্য তথ্য দৃশ্যমান রাখুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা অতিরিক্ত তথ্য অনুসরণ করেই অপরাধীরা একজন ব্যক্তির অবস্থান ও পরিচয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।

২. পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কাউকে দেবেন না
ব্যাংক, বিকাশ, নগদ কিংবা অন্য কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করলেও পিন, পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা লগইন কোড কাউকে দেওয়া যাবে না। এসব তথ্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান ফোন করে গ্রাহকের কাছে এ ধরনের গোপন তথ্য জানতে চায় না। তাই এমন ফোন এলে সতর্ক থাকুন এবং কোনো তথ্য না দিয়ে যোগাযোগটি এড়িয়ে চলুন।

৩. অচেনা ও লোভনীয় লিংকে ক্লিক করবেন না
অনলাইন প্রতারণার অন্যতম হাতিয়ার হলো ভুয়া লিংক। মেসেঞ্জার, খুদে বার্তা বা ই-মেইলে উপহার, বিশেষ অফার কিংবা জরুরি সতর্কবার্তার কথা বলে কোনো লিংক পাঠানো হলে যাচাই ছাড়া তাতে ক্লিক করবেন না। সাইবার অপরাধীরা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো ও ওয়েবসাইটের আদল নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে। সেখানে প্রবেশ করলেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোনো বার্তা সত্যি মনে হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই করে নিন।

৪. আলাদা পাসওয়ার্ড ও দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন
সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে। ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আর্থিক লেনদেনের অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাশাপাশি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের যাচাই ব্যবস্থা চালু রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড কোনোভাবে অন্যের হাতে গেলেও অতিরিক্ত যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হবে।

৫. মোবাইল ও কম্পিউটারের সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ করুন
মোবাইল বা কম্পিউটারের পরিচালন ব্যবস্থা কিংবা অ্যাপে নতুন হালনাগাদ এলে তা ফেলে রাখা উচিত নয়। এসব হালনাগাদে অনেক সময় নিরাপত্তার ত্রুটি সংশোধন করা হয়। ফলে ডিভাইস ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ রাখা সাইবার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি অপরিচিত বা অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ও সফটওয়্যার ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

অনলাইনে নিরাপদ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতন থাকা। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করা, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা এবং পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপির মতো গোপন তথ্য কাউকে না দিলেই সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত