গড় আয়ুতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

জবাবদিহি ডেস্ক

অন্যান্য

2026-10-04T13:51:14+06:00
2026-10-04T13:52:14+06:00
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
অন্যান্য
গড় আয়ুতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১:৫১ পিএম | ৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
ছবি- এআই নির্মিত
স্বাস্থ্য খাতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র এখন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে জন্মের সময় প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতে ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর। অর্থাৎ গড় আয়ুর হিসাবে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে গড় আয়ুর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর।

ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের গড় আয়ু, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময়, মৃত্যুর কারণ এবং রোগের বোঝা সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে গড় আয়ু প্রায় মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় আগের অবস্থায় ফিরছে তুলনামূলক ধীরগতিতে।

কয়েক দশকে বদলে গেছে বাংলাদেশের চিত্র
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান বুঝতে হলে কয়েক দশক পেছনে তাকাতে হয়। ১৯৭৯ সালে দেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি চালু হওয়ার সময় প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ২১১ জনের পাঁচ বছর বয়সের আগেই মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

স্বাধীনতার মাত্র আট বছর পরের সেই সময়ে বাংলাদেশ ছিল অত্যন্ত দরিদ্র একটি দেশ। রোগের প্রকোপ ছিল বেশি, পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতিও ছিল ব্যাপক। তখন একজন বাংলাদেশির প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল মাত্র ৪৭ বছর।

তবে কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অগ্রগতি নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্মে ৩১ জনে নেমে এসেছে। একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৭ বছর বলে উল্লেখ করা হয়।

অর্থাৎ টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারের মতো ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আয়ুও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দীর্ঘ জীবনই যথেষ্ট নয়, সুস্থ থাকাও জরুরি
গড় আয়ু একটি দেশের জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও বেশি দিন বেঁচে থাকলেই যে পুরো সময় সুস্থভাবে কাটছে, তা নয়। ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ হিসাবেও গড় আয়ু ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে এ পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

ভারতে ২০২৩ সালে গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। এর বিপরীতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর। ২০১৯ সালে এই সময় ছিল ৬০ দশমিক ৫ বছর। করোনার প্রভাবে ২০২১ সালে তা কমে ৫৮ দশমিক ৪ বছরে নেমে যায়। পরে ২০২২ সালে বেড়ে ৬০ দশমিক ২ বছর এবং ২০২৩ সালে ৬০ দশমিক ৬ বছরে দাঁড়ায়।

ভারতে ২০১৯ সালে গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৫ বছর। ২০২১ সালে তা কমে ৬৮ দশমিক ১ বছরে নেমে আসে। পরে ২০২২ সালে ৭০ দশমিক ৫ এবং ২০২৩ সালে ৭১ বছরে ফিরে আসে। অর্থাৎ দুই বছরের মধ্যে দেশটি প্রত্যাশিত গড় আয়ুর ২ দশমিক ৯ বছর ফিরে পেয়েছে। একই সময়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় বেড়েছে ২ দশমিক ২ বছর।

মহামারির প্রভাব কাটিয়ে উঠছে বিশ্ব
ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৩ বছর। ২০১৯ সালে তা ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ করোনাভাইরাস মহামারির আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে এসেছে বৈশ্বিক গড় আয়ু। তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় একই গতিতে পুনরুদ্ধার হচ্ছে না।

ডব্লিউএইচওর ডাটা বিভাগের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক বলেন, “জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।”

বাংলাদেশের গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতাও দেখায়, মানুষের আয়ু বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘ জীবনের বছরগুলোকে সুস্থ ও কর্মক্ষম করে তোলাই এখন জনস্বাস্থ্যের বড় লক্ষ্য। শিশু মৃত্যুহার কমানো এবং গড় আয়ু বাড়ানোর সাফল্যের পর বাংলাদেশের সামনে তাই স্বাস্থ্যকর দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত