নাটোরের গুরুদাসপুরে বাবার লিখে দেওয়া প্রায় পাঁচ বিঘা জমি দখলমুক্ত, মারধর ও হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুপুর খাতুন নামে এক নারী।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঝাউপাড়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নুপুরের বাবার নাম নুরুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের পিপলা গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে নুপুর খাতুন অভিযোগ করেন, তিনি নুরুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁর বাবা প্রায় পাঁচ বিঘা জমি তাঁর নামে লিখে দেন। কিন্তু তাঁর দুই চাচা জামিরুল ও জাহিদুল ওই জমি দখল করে ভোগ করছেন।
নুপুরের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর দুই চাচা তাঁকে ও তাঁর মাকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর চার বছর বয়সী ছোট ছেলেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। শিশুটির মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ঢাকার চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে, তাঁর সন্তান, বাবা ও মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন।
নুপুর খাতুন বলেন, “বাবা আমার নামে জমি লিখে দিয়েছেন। কিন্তু চাচারা সেই জমি দখল করে ভোগ করছেন। জমি ফেরত চাইতে গিয়ে আমাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমি বাবার দেওয়া সম্পত্তি দখলমুক্ত করে ফেরত চাই। পাশাপাশি আমাদের হয়রানি ও মারধরের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি। এ অবস্থায় প্রশাসনের কাছে জমি দখলমুক্ত করা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামিরুল ও জাহিদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
জ/উ