ফেসবুক লাইভে ধরা পড়েছিল হামলার দৃশ্য। প্রকাশ্য সড়কে ঘিরে ধরে হাতুড়ি-রড-চাপাতি দিয়ে পেটানো হয়েছিল যুবদল নেতা শান্ত সরকারকে। ১০ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু। এরপর হত্যা মামলা। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে-এমন অভিযোগ নিহতের পরিবারের। শুধু তাই নয়, মামলার বাদীর দাবি, পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে সেটিও ছিল ‘মিথ্যা ঘটনার’ ওপর ভিত্তি করে। সেই প্রতিবেদনে নারাজি দেওয়ার পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) পাঠিয়েছেন।
এদিকে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী সালাহউদ্দিন সরকার। তাঁর দাবি, স্থানীয়রা আসামিদের প্রকাশ্যে দেখতে পেলেও পুলিশ তাদের ‘দেখতে পাচ্ছে না’। ফলে পরোয়ানা থাকার পরও গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেউ। এর মধ্যেই গত রোববার মামলার আসামি ফরহাদকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।
গত ১১ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দা-হিরনাল এলাকায় হামলার শিকার হন শান্ত সরকার (২৪)। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আসাদ নূর ফকিরের নেতৃত্বে ২৫-২৬ জনের একটি দল তাঁর পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত শান্তকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২১ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে শান্তের চাচা সালাহউদ্দিন সরকার বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আসাদ নূর ফকির, শাহীন আকন্দ, ফরহাদ মোল্লাসহ অন্যদের আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন সরকারের ভাষ্য, থানা পুলিশ যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, সেটি মিথ্যা ঘটনার রিপোর্ট। প্রকৃত ঘটনা সেখানে উঠে আসেনি। তাই আদালতে নারাজি দিয়েছি। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে দিয়েছেন।
মূল আসামির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ :
স্থানীয় আরেকটি সূত্রের দাবি, হত্যা মামলার আসামি আসাদ নূর ফকিরের বিরুদ্ধে জমি দখল, জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা এবং মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। রূপগঞ্জের ১৫/১৬ ও কুলিয়াদি মৌজায় অন্যের জমি দখল ও ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন করছেন বলেও সূত্রটির অভিযোগ।
সূত্রটির দাবি, এক বছরের বেশি সময় আগে অন্যের দখল করা ও ভাড়া নেওয়া জমিতে ‘প্যারিস সিটি’ নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রকল্প করার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে বিরোধের জেরে প্যারিস সিটিকে সরিয়ে ‘এপেক্স’ নামে আরেক ডেভেলপার কোম্পানিকে সেখানে প্রকল্পের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গেও বিরোধ তৈরি হয়েছে, তাই তারা সেখান থেকে প্রজেক্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছেন। এ ছাড়াও এক ব্যক্তির ১৪ শতাংশ জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জমির মালিক যোগাযোগ করলে আসাদ মাটি কে কেটেছে তা জানেন না বলে দাবি করেন বলে সূত্রটির ভাষ্য।
এছাড়াও শান্ত হত্যা মামলায় গত ২ আগস্ট র্যাব-১- এর একটি দল শাহীন আকন্দকে গ্রেপ্তার করেছিল। আর গত রোববার ফরহাদ গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্য মামলায়। এখন সিআইডির অধিকতর তদন্তে বাদীর অভিযোগ, আগের তদন্তের অসংগতি এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের অবস্থান- সবকিছুই নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রশ্ন এখন একটাই- ফেসবুক লাইভে ধরা পড়া সেই হামলার প্রকৃত রহস্য কি সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসবে, নাকি পরোয়ানা নিয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের ছায়াতেই আটকে থাকবে শান্ত হত্যার বিচার?
জ/বা