ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা, মৃত ২ হাজার ৩২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-08-17T12:40:57+06:00
2026-08-17T12:40:57+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা, মৃত ২ হাজার ৩২৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১২:৪০ পিএম | ১৭ আগস্ট, ২০২৬ | সোমবার
ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা, মৃত ২ হাজার ৩২৫
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের চলমান প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ইবোলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের প্রাদুর্ভাব, যা ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারি হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (১৬ আগস্ট) পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব। এটি ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তের সংখ্যার হিসাবে জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড গড়ে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও এবারের প্রাদুর্ভাব ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বুধবার সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে এবারের প্রাদুর্ভাব ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারির মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বান্দিবুগিও প্রজাতি। এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকেই দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, দুর্গম এলাকা এবং দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলা কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বা ‘কেস ফ্যাটালিটি রেশিও’ জুনের শুরুতে প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই মারা যাচ্ছেন।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের (এমএসএফ) জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ বলেন, সাধারণত কোনো প্রাদুর্ভাবের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রোগী শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসন্ধান এবং দ্রুত চিকিৎসার কারণে মৃত্যুহার কমে আসার কথা। কিন্তু ডিআর কঙ্গোতে অনেক রোগী এখনো দেরিতে শনাক্ত হচ্ছেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারা যাওয়ার পরও তার সংক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত হচ্ছে।

এদিকে অল্পসংখ্যক পরীক্ষামূলক টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে মূল্যায়ন চলছে। একই সঙ্গে নতুন এই প্রাদুর্ভাবে আগে থেকে ব্যবহৃত ইবোলা চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে কি না, তা যাচাই করছেন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: আলজাজিরা

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত