দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির দাফন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রবাস

2026-08-16T08:21:54+06:00
2026-08-16T08:21:54+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
প্রবাস
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির দাফন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ৮:২১ এএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | রোববার
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির দাফন
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সমো এলাকার ‘মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি’ সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর কুইন্সটাউন জামে মসজিদে দুই দফায় জানাজা শেষে কুইন্সটাউনের ইজিবিলিনি মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

জানাজায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির শীর্ষ নেতা ডা. মাকাদা, বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ইউনুস, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ান কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে আসা বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কুইন্সটাউন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা শহিদুল হক হেলালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং দোকান মালিকপক্ষের সহযোগিতায় দাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অগ্নিকাণ্ডে মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে যায় যে পৃথকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ছয়জনকে তিনটি কবরে, প্রতি কবরে দুজন করে দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয় কমিউনিটি নেতা মাহমুদুর রহমান জানান, আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় কোনটি কার, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলেও এতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও জটিল হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সম্মতিতে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ২৮ জুলাই ভোররাতে সমো এলাকার ‘মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি’ সুপারশপের আবাসিক অংশে আগুন লাগে। ওই সময় দোকানের পেছনের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সাত বাংলাদেশির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মো. ফয়সাল (২৬), মো. ফাহিম (২৯), শামীম হাসান (৩০), মোহাম্মদ আপন (২৩), নূর মোহাম্মদ (৫৫) এবং মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারী (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় মো. সুমন আহত হন। তিনি জানাজা ও দাফনেও অংশ নেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশ হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফীর নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নেওয়া শত শত মুসল্লি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত