আজিমপুর ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর মৃত্যু: সুষ্ঠু পুন: তদন্ত ও জড়িতদের শস্তি দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

অপরাধ

2026-04-05T17:18:14+06:00
2026-04-05T17:18:14+06:00
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অপরাধ
আজিমপুর ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর মৃত্যু: সুষ্ঠু পুন: তদন্ত ও জড়িতদের শস্তি দাবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম 
আজিমপুর ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর মৃত্যু: সুষ্ঠু পুন: তদন্ত ও জড়িতদের শস্তি দাবি
রাজধানীর আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে-কেয়ার সেন্টারে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ১১ মাস বয়সী কন্যা শিশু উম্মে আলিফের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু পুন:তদন্ত ও ন্যায্য বিচার চাইছি। বর্তমান সরকারের কাছে অবহেলায় মৃত্যুজনিত এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির মা-বাবা। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ডে- কেয়ার সেন্টারে কারো সন্তানের অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু না হয়।

আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে (নীচতলা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান নিহত উম্মে আলিফের পিতা হাকিবুল হাসান তালুকদার ও মাতা ইসমত আরা তালুকদার।

লিখিত বক্তব্যে হাকিবুল হাসান তালুকদার বলেন, গত ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর শিশু কন্যাকে ১০টার দিকে ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে আমার স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। ওই দিন দুপুর পৌনে একটার দিকে ওই সেন্টারের প্রধান রেজিনাওয়ালী মোবাইল ফোনে জানায় উম্মে আলিফ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে আজিমপুর মেটার্নিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পারলে আপনারা আসুন। দ্রুত ওই মেটার্নিতে পৌঁছে দেখি তাকে ওই সেন্টারের কর্মচারী কোলে রেখেছে। সে সময় তার নাকে অক্সিজেনের পাইপ লাগানো ছিল। তাকে আমি নিজে কোলে নিতে চাইলে তারা বলে আপনার মেয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। আপনার কোলে দেয়া যাবে না। এই বলে তাকে ঢাকা মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

রেফার্ডের কাগজ দেখে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বলেন, আপনারাতো ওই বাচ্চাকে মৃত অবস্থায় মেটার্নিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পোস্ট মোর্টেম করতে ঢামেকে পাঠিয়েছে। তখন আমি জানতে পারি সেন্টারে কর্মরতদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য বিষয়টি ডে-কেয়ার সেন্টারের লোকজনের সাথে আলাপ করে মিটিয়ে ফেলুন। পুলিশ দীর্ঘ সময় আমাদের বসিয়ে রেখে রাত ২টার দিকে মামলা গ্রহণ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকীরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ তড়িঘড়ি করে অসম্পূর্ণ চার্জশীট দাখিল করায় এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা খালাস পেয়ে যায়। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলায় একজনকে দোষি সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। বাকী ৫ জনকে খালাস প্রদান করা হয়।

বিচার চলার শেষদিকে একদিন এজলাসে ডেকে নেয়া হলেও কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। মামলার বিচারে কোনো ধরণের গুরুত্ব না দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।

নিহত উম্মে আলিফের মা ইসমত আরা তালুকদার কান্না ভেজা কণ্ঠে বলেন, সকালে আমার কন্যাকে সুস্থ্য অবস্থায় ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে এসে দুপূরের পর জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে। সেন্টারে কর্মরতদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে উম্মে আলিফের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর দায় ওই সেন্টারে কর্মরতদের। এ সময় তিনি সন্তান হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায্য বিচার দাবি করেন।





Advertisement
Loading...
Loading...
অপরাধ - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]