বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত, মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যাওয়া এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তিন দিনের রিমান্ড শেষে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে পুলিশ। বিকেলে ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি গ্রহণ করেন মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাহসিফকে তাঁর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তাঁরা একসঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে গিয়ে সেটির কাজ করান। এরপর জেরিকা তাসনিম দিশাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সিপি ফাইভ স্টারে একাধিকবার নাশতা করেন। ওই দিন রাতে তাঁরা উত্তরা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় যান। সেখানে তিনজনই বিয়ার পান ও ধূমপান করেন। একপর্যায়ে জেরিকা বাসায় চলে যান।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। সেখান থেকে হেঁটে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যান তাঁরা। পরে কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে দুজন আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা এবং এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও জেরিকার সঙ্গে দেখা গেছে। তাঁদের সঙ্গে তাহসিফের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রিমান্ডে দীপ মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য প্রকাশ না করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার স্বার্থে দীপকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। প্রয়োজনে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ/দি