তাহসিফ হত্যা: দীপকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-11-03T15:52:42+06:00
2026-11-03T15:52:42+06:00
বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আইন-আদালত
তাহসিফ হত্যা: দীপকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৩:৫২ পিএম | ৩ নভেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় চার দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে দীপ কিছু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আগের চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য করা একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় ফিরে যান।

এরপর ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজন লোককে দেখতে পেয়ে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার আগে তাহসিফকে দীপ ও দিশার সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সর্বশেষ তাদের সঙ্গেই তাহসিফকে দেখা গিয়েছিল। এ কারণে হত্যাকাণ্ডে দীপ ও দিশার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীপকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে পুলিশ আটটি কারণ উল্লেখ করেছে।
সেগুলো হলো—
১. সংগ্রহ করা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ দীপের উপস্থিতিতে যাচাই, বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা।
২. ভিকটিমের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে দীপ কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট কোথায় যোগাযোগ করেছিলেন, তা পর্যালোচনা করা।
৩. ভিকটিম, দীপসহ মামলার সংশ্লিষ্ট অন্যদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা।
৪. মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা।
৫. অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা।
৬. আলামত উদ্ধার করা।
৭. হত্যার উদ্দেশ্য বা মোটিভ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
৮. হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ করা।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফ ও তার বান্ধবী প্রবেশ করেন। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে পৌঁছান দীপ।

মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের জন্য অপেক্ষা করছেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।

রেস্টুরেন্টে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা আবার মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পরে তাহসিফ সাউরির বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।

জ/দি


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত