মানবদেহে প্রথমবার প্রয়োগ হলো এআই-নকশা করা ভাইরাস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি

2026-11-05T18:29:28+06:00
2026-11-05T18:29:28+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
প্রযুক্তি
মানবদেহে প্রথমবার প্রয়োগ হলো এআই-নকশা করা ভাইরাস
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
⏲ ৬:২৯ পিএম | ৫ নভেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে এক রোগীর শরীরে প্রয়োগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওই রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভাইরাসটি তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এআই স্টার্টআপ র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এআই-নকশা করা ভাইরাস মানবদেহে প্রয়োগের ঘটনা এটিই প্রথম।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত এক রোগীর ওপর পরীক্ষামূলকভাবে এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘ওমনি-১’ (Omnii-1) দিয়ে নকশা করা ভাইরাস।

ওমনি-১ মূলত ব্যাকটেরিওফাজ বা ফাজ নামে পরিচিত এক ধরনের ভাইরাস নকশা করে। এসব ভাইরাস মানুষের কোষে আক্রমণ করে না; বরং নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে ধ্বংস করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হলে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে চিকিৎসকেরা আগে থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ফাজ থেরাপি ব্যবহার করছেন।

প্রচলিত ফাজ থেরাপিতে সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে-এমন প্রাকৃতিক ভাইরাস খুঁজে বের করতে হয়। তবে র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের এআই মডেল এ ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। নতুন ভাইরাস খোঁজার পরিবর্তে বিদ্যমান একটি ভাইরাসের নির্দিষ্ট অংশের নকশায় পরিবর্তন এনেছে মডেলটি। এর উদ্দেশ্য হলো, সংক্রমণ ঘটানো ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট প্রজাতিকে আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও আক্রমণ করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআইনির্ভর এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে রোগীর সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্যেই উপযোগী ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে জটিল ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় কার্যকর বিকল্প উদ্ভাবনের সময় কমে আসতে পারে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না পাওয়া রোগীদের পরীক্ষামূলক থেরাপি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে—এমন একটি কর্মসূচির আওতায় ওই রোগীর শরীরে ভাইরাসটি প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসার আগে রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনায় এআই-নকশা করা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছিল। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস জানিয়েছে, পরীক্ষাগারে ভাইরাসের মিশ্রণটি নমুনায় থাকা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছিল।

তবে রোগীর সুনির্দিষ্ট রোগনির্ণয়, চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে কি না-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া চিকিৎসার ফলাফল নিয়ে এখনো কোনো বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি।

এআই ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও এ প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা জানান, তাঁরা এআই ব্যবহার করে আগে কখনো দেখা যায়নি-এমন ভাইরাসের নকশা তৈরি করেছেন। এসব ভাইরাস পরীক্ষাগারে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল।

ওই গবেষণায় এআই দিয়ে নকশা করা প্রায় ৩০০টি ভাইরাল জিনোম সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। তবে গবেষণাটি মানুষের শরীরে নয়, ব্যাকটেরিয়ার ওপর পরিচালিত হয়।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন ভাইরাস নকশা করার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম ভাইরাস তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা উদ্বেগজনক। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা তাঁদের পরীক্ষায় মানুষ বা প্রাণীকে আক্রমণকারী ভাইরাসের পরিবর্তে ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করে এমন ভাইরাস তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এআইনির্ভর জীববৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিটির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। সম্ভাব্য অপব্যবহার ও ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তাঁরা তুলে ধরছেন।

জ/উ


Advertisement
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত