পুরোনো ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের ৫টি কার্যকর ব্যবহার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি

2026-11-01T15:29:19+06:00
2026-11-01T15:29:19+06:00
রোববার ● ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
প্রযুক্তি
পুরোনো ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের ৫টি কার্যকর ব্যবহার
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
⏲ ৩:২৯ পিএম | ১ নভেম্বর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
ক্লাউড স্টোরেজ, স্ট্রিমিং সেবা এবং দ্রুতগতির এক্সটার্নাল এসএসডির ব্যবহার বাড়ায় ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে পুরোনো ইউএসবি ড্রাইভ যে একেবারেই অকার্যকর, তা নয়। সামান্য পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের সহায়তায় অব্যবহৃত এই ডিভাইসটি নানা কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

জরুরি মুহূর্তে কম্পিউটার চালু করা থেকে শুরু করে গাড়িতে গান শোনা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথির ব্যাকআপ রাখা—বিভিন্ন কাজে পুরোনো ইউএসবি ড্রাইভ হতে পারে কার্যকর সমাধান। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এর পাঁচটি ব্যবহার।

১. কম্পিউটার চালু ও মেরামতের বুটেবল ড্রাইভ

পুরোনো ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভকে উইন্ডোজ বা ম্যাকওএস ইনস্টলেশন এবং রিকভারি ড্রাইভ হিসেবে তৈরি করা যায়। কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা চালু হতে সমস্যা দেখা দিলে এ ধরনের ড্রাইভ দিয়ে অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল, রিকভারি টুল চালানো এবং সফটওয়্যারজনিত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

তবে কম্পিউটার বিকল হওয়ার আগেই বুটেবল বা রিকভারি ড্রাইভ তৈরি করে রাখা ভালো। কারণ কম্পিউটার চালু না হলে প্রয়োজনীয় ড্রাইভ তৈরির কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা মাইক্রোসফটের নির্দেশনা অনুসরণ করে ইনস্টলেশন মিডিয়া তৈরি করতে পারেন। অন্যদিকে, ম্যাক ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী বুটেবল ইনস্টলার তৈরি করতে পারবেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় ইউএসবি ড্রাইভে আগে থেকে সংরক্ষিত তথ্য মুছে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় ফাইল আগেই অন্যত্র সরিয়ে রাখা উচিত।

২. গাড়িতে গান শোনার অফলাইন লাইব্রেরি

গাড়িতে পছন্দের গান শোনার জন্যও পুরোনো ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করা যায়। পছন্দের গানগুলো ড্রাইভে সংরক্ষণ করে গাড়ির ইউএসবি পোর্টে যুক্ত করলেই ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা স্ট্রিমিং সেবার সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই গান শোনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

এতে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমে। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণে কিংবা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলে অফলাইন মিউজিক লাইব্রেরি বেশ কাজে আসতে পারে।

তবে সব গাড়িতে ইউএসবি ড্রাইভ থেকে গান শোনার সুবিধা থাকে না। আবার গাড়িভেদে সমর্থিত অডিও ফরম্যাট, ফোল্ডার বিন্যাস ও প্লেলিস্টের নিয়মেও পার্থক্য থাকতে পারে। তাই গান কপি করার আগে গাড়ির ব্যবহারবিধি দেখে নেওয়া ভালো।

৩. কম্পিউটারের নিরাপত্তা চাবি হিসেবে ব্যবহার

বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভকে কম্পিউটারের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

উদাহরণ হিসেবে উইন্ডোজের জন্য তৈরি ‘ইউএসবি র‍্যাপ্টর’ সফটওয়্যারের কথা বলা যায়। নির্দিষ্ট ইউএসবি ড্রাইভ কম্পিউটারে যুক্ত থাকা কিংবা সরিয়ে ফেলার ভিত্তিতে সফটওয়্যারটি কম্পিউটার লক ও আনলক করার ব্যবস্থা করতে পারে।

এতে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে বাড়তি একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পাওয়া যায়। তবে সাধারণ ইউএসবি ড্রাইভকে বিশেষায়িত হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি কি-এর সমতুল্য মনে করা ঠিক হবে না। বিশেষ করে অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য পাসকি বা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা কি ব্যবহার করাই বেশি উপযোগী।

এ ছাড়া ইউএসবি ড্রাইভ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে যেন কম্পিউটারে প্রবেশের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য বিকল্প রিকভারি পদ্ধতি চালু রাখা জরুরি।

৪. গুরুত্বপূর্ণ নথির এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ

জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পরিচয়পত্র, ব্যবসায়িক নথি কিংবা প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি সংরক্ষণের জন্য পুরোনো ইউএসবি ড্রাইভ কাজে লাগানো যায়।

কম্পিউটার নষ্ট হওয়া, হারিয়ে যাওয়া কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যায় তথ্য মুছে গেলে আলাদা ড্রাইভে রাখা ব্যাকআপ থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল ফিরে পাওয়া সম্ভব। তবে এসব নথিতে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা ভালো। ‘ভেরাক্রিপ্ট’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইউএসবি ড্রাইভের তথ্য কিংবা নির্দিষ্ট স্টোরেজ ভলিউম এনক্রিপ্ট করা যায়। ফলে সঠিক পাসওয়ার্ড ছাড়া অন্য কারও পক্ষে সংরক্ষিত তথ্য পড়া কঠিন হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তায় প্রচলিত ব্যাকআপ নীতি অনুযায়ী অন্তত তিনটি কপি রাখা ভালো। এর মধ্যে একটি মূল কপি, একটি আলাদা স্থানীয় ব্যাকআপ এবং অন্যটি ভিন্ন স্থানে বা নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যাকআপের তথ্য ঠিকমতো খোলা যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

৫. রেট্রো গেমিংয়ের পোর্টেবল লাইব্রেরি

পুরোনো ভিডিও গেমের প্রতি আগ্রহ থাকলে ইউএসবি ড্রাইভ দিয়ে তৈরি করা যায় ছোট একটি পোর্টেবল গেমিং লাইব্রেরি। এতে গেমের ফাইল, এমুলেটর সফটওয়্যার এবং প্রয়োজনীয় কনফিগারেশন ফাইল সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সামঞ্জস্যপূর্ণ কম্পিউটার বা গেমিং ডিভাইসে ইউএসবি ড্রাইভ যুক্ত করে এসব ফাইল ব্যবহার করা যায়। এতে ইন্টারনেট কিংবা ওয়্যারলেস সিঙ্কিং ছাড়াই এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে গেমসংক্রান্ত ফাইল নেওয়া সহজ হয়।

পুরোনো ইউএসবি ড্রাইভ নতুন করে ব্যবহারের আগে এর শারীরিক অবস্থা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি ম্যালওয়্যার স্ক্যান করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে নেওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এনক্রিপশন ব্যবহার করাও প্রয়োজন।

তবে ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভকে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে নির্ভর করা ঠিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের আরেকটি কপি আলাদা জায়গায় রাখাই নিরাপদ। সূত্র: সামা টিভি

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত