গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন কলেজে এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল হতাশাজনক। অতীতের বছরগুলোর তুলনায় এবার ফলাফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী মন খারাপ করে আছে। অন্যদিকে দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
জেলায় পাসের হারের দিক থেকে এবার শীর্ষে রয়েছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজী জহুরুল হক কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ কলেজ থেকে ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৪ জন। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, গত বছরও পাসের হারে কলেজটি জেলায় প্রথম অবস্থানে ছিল।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে। এ কলেজের মোট ২ হাজার ২৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫৭২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৭১৯ জন। পাসের হার ৬৮ শতাংশ। কৃতকার্যের সংখ্যায় কলেজটি জেলায় প্রথম, পাসের হারে তৃতীয় এবং অকৃতকার্যের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মুকসুদপুর সরকারি কলেজের ফলাফল তুলনামূলকভাবে খারাপ। এ কলেজের ১ হাজার ৪০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ১২১ জন। পাস করেছে মাত্র ২৮১ জন। পাসের হার ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ। কৃতকার্যের সংখ্যায় কলেজটির অবস্থান তৃতীয় হলেও পাসের হারে অবস্থান ২০তম। অকৃতকার্যের সংখ্যায় জেলায় কলেজটি প্রথম।
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজ থেকে এবার ৭৫৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৭৮ জন পাস করেছে এবং ৫৭৬ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। অকৃতকার্যের সংখ্যায় কলেজটির অবস্থান চতুর্থ।
গোপালগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ৭৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫৭৮ জন। এ কলেজের পাসের হার ২২ শতাংশ। অকৃতকার্যের সংখ্যার দিক থেকে জেলায় কলেজটির অবস্থান তৃতীয়।
গোপালগঞ্জ শহরের হাজী লাল মিয়া সিটি কলেজের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। এ কলেজের ৭০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫০ জন পাস করেছে এবং ১৫৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। কৃতকার্যের সংখ্যায় কলেজটি দ্বিতীয় এবং পাসের হারের দিক থেকেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এ ছাড়া কোটালিপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের ৫১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪২ জন পাস করেছে এবং ৩৭১ জন অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় সরকারি নজরুল কলেজ থেকে ৪৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৪৯ জন উত্তীর্ণ এবং ২৩৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। কলেজটির পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
জেলায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ কলেজ থেকে ৭৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গোপালগঞ্জ শহরের হাজী লাল মিয়া সিটি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সদর উপজেলার কাজী জহুরুল হক কলেজ। এ ছাড়া জেলার মাত্র তিনটি কলেজ থেকে দুজন করে এবং আটটি কলেজ থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জ/দি