বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামে নিজ অর্থায়নে নির্মিত আবাসন প্রকল্প ‘সামারা ভিলা’ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন ভবনটির মালিক ব্যবসায়ী আলহাজ মো. তরিকুল ইসলাম তারেক। তাঁর অভিযোগ, মেজো ভাই মিজানুর রহমান স্বপন স্থানীয় লোকজন ও ভাড়াটে ব্যক্তিদের নিয়ে ভবনটি দখলের উদ্দেশ্যে তাণ্ডব চালিয়েছেন। এতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলহাজ মো. তরিকুল ইসলাম তারেক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নিজ অর্থায়নে বাকেরগঞ্জের আঙ্গারিয়া গ্রামে ৪৪ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। ভাইদের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাসের কারণে জমির দলিলে তাঁদের কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে ছোট ভাই আর্থিক সংকটে পড়লে তাঁর অংশটুকুও নিজ খরচে কিনে নেন।
তরিকুল ইসলামের দাবি, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে ২০২০ সালে ওই জমিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। ২০২৩ সালে ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়। নিজের একমাত্র মেয়ের নাম অনুসারে বাড়িটির নাম রাখা হয় ‘সামারা ভিলা’। বাড়িটির হোল্ডিং নম্বর ৩৫৬। ভবনটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ছোট ভাই আরিফুর রহমান সুমন বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এর নিচতলায় বসবাস করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মেজো ভাই মিজানুর রহমান স্বপন দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি তরিকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও কিছুদিন কাজ করেন। পরে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে একপর্যায়ে ছোট ভাই সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রামে ফিরে ভবনটির নিচতলায় বসবাস শুরু করেন।
এ পরিস্থিতিতে তরিকুল ইসলাম স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ জানান। পরে দুর্গাপাশা ইউনিয়নের তৎকালীন ও বর্তমান চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের দলিল ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে মিজানুর রহমানের অংশ আলাদা করে সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে তরিকুল ইসলামের অর্থায়নে নির্মিত বাড়িঘর, পুকুর ও প্রবেশপথ তাঁর অনুপস্থিতিতে ও অনুমতি ছাড়া ছোট ভাই আরিফুর রহমানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরিকুল ইসলামের অভিযোগ, কিছুদিন পর মিজানুর রহমান সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে পেশিশক্তি প্রয়োগ করেন। তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির নামফলক, সীমানা পিলার এবং কাঁটাতারের বেড়া উপড়ে পানিতে ফেলে দেন। পরে চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর কাছে তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। এ-সংক্রান্ত নথি এবং ক্ষমা চাওয়ার প্রমাণ ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সালিশের সময় মিজানুর রহমানের ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রকাশ্যে তরিকুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথন ও হুমকির ভিডিও ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত আছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সালিশি সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগ উপেক্ষা করে পুরো বাড়িটি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। মিজানুর রহমান বাউফল থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও ভাড়াটে ব্যক্তিদের নিয়ে এসে এ ঘটনা ঘটান বলে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় বাড়ির মূল নামফলক ভেঙে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের পিলার ও কাঁটাতারের বেড়াও তুলে নষ্ট করা হয়। ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য রাখা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার টাইলস, মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এসি, গিজার, স্যানিটারি সামগ্রী এবং আসবাবপত্র লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভবনটির দ্বিতীয় তলা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তরিকুল ইসলাম।
বর্তমানে ‘সামারা ভিলা’র তত্ত্বাবধায়ক আরিফুর রহমান সুমন ও তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ জানালে সুমনকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানিয়েছেন, বাড়ি দখল ও মালামাল লুটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের অর্থ ও পরিশ্রমে গড়ে তোলা সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
জ/দি