‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’-সরকারের এই স্লোগান মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পরামর্শের ঘাটতির অভিযোগের মধ্যে অনেক পরিবারে তিন থেকে চারটি সন্তান রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয়জন। এতে মায়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক চাপও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
মাঠপর্যায়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কালকিনি উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীদের নিয়মিত গৃহপরিদর্শন ও উঠান বৈঠক আয়োজন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অধিক সন্তান জন্মদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে নারীদের সচেতন করার কার্যক্রমও যথাযথভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে দম্পতিরা পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সঠিক ও সময়োপযোগী পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে নারীদের স্বাস্থ্যে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছে, যা শিশুদের যথাযথ শিক্ষা ও লালন-পালনেও বাধা সৃষ্টি করছে।
উপজেলার লামিয়া (২৩), মিনারা (২৮), দুলুফা (২৭)সহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের অনেকেই ছোট পরিবার গড়ে তুলতে চান। তবে প্রয়োজনীয় সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে পরামর্শ পান না বলে অভিযোগ তাঁদের। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কীভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে, সে বিষয়েও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পান না বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সচেতনতার অভাব এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতির কারণে অনেক পরিবারে সন্তানের সংখ্যা তিন থেকে চারজনে দাঁড়িয়েছে। কিছু পরিবারে এ সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয়জন পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সন্তান জন্মদান এবং অধিক সন্তান ধারণের কারণে নারীদের পুষ্টিহীনতা, রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও ওষুধের সংকট রয়েছে। তবে মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করার কথা। কেউ দায়িত্ব পালন না করলে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারগুলোতে আর্থিক অসচ্ছলতাও বাড়তে পারে।
তাঁরা মনে করেন, সরকারের ‘একটি হলে ভালো হয়’ স্লোগান বাস্তবায়নে কালকিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত বিনা মূল্যে ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জ/উ