সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হতাহতের এ তথ্য জানায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিয়াদকে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এদিকে এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুথি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব দিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল-বুখাইতি বলেন, হুথিরা এ হামলা চালিয়েছে, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে—ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা এসব স্থাপনার ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম কার্যকর থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
জ/শা