দূর থেকে কাজের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল নোম্যাড জীবনধারা। ডিজিটাল নোম্যাড আসলে কী? ডিজিটাল নোম্যাড বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে কাজ করেন এবং কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে বা শহরে ঘুরে বেড়ান। অর্থাৎ স্থান পরিবর্তন করে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন ব্যক্তি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করে অনলাইনে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য ভিসা, ব্যাংকিং সুবিধা, চিকিৎসাসেবা, ইন্টারনেট সংযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব ক্ষেত্রে কোন দেশগুলোতে ঝামেলা কম, তা নিয়ে ২০২৬ সালের একটি সূচক প্রকাশ করেছে ই-সিম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হোলাফ্লাই।
ডিজিটাল নোম্যাড ফ্রিকশন ইনডেক্স ২০২৬ শীর্ষক এই গবেষণায় ১৭টি জনপ্রিয় গন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, ব্যাংকিং সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্টারনেট সংযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দেশগুলোর সামগ্রিক স্কোর নির্ধারণ করা হয়। সূচকে স্কোর যত কম, সেখানে বসবাস ও কাজ শুরু করার প্রশাসনিক জটিলতা তত কম।
শীর্ষে জর্জিয়া সূচকে সবচেয়ে কম জটিলতার দেশ হিসেবে প্রথম স্থান পেয়েছে ককেশাস অঞ্চলের দেশ জর্জিয়া। সেখানে বাধ্যতামূলক আবাসন নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই এবং কর শনাক্তকরণ নম্বরের বাধ্যবাধকতাও নেই। পাসপোর্ট দিয়েই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ থাকায় দেশটি ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে উঠে এসেছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেরু। দেশটির ‘রেন্তিস্তা’ আবাসন ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে ভূমিকম্প ও এল নিনোর প্রভাবের ঝুঁকি দেশটির অবস্থানকে পিছিয়ে দিয়েছে।
তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। অনাবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক ঠিকানা নিবন্ধন ও কর শনাক্তকরণ নম্বরের প্রয়োজন না হওয়া দেশটির ইতিবাচক দিক। তবে স্বাস্থ্যসেবার তুলনামূলক কম স্কোর এর অবস্থানে প্রভাব ফেলেছে।
চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ ভিসা কর্মসূচি থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দেশ দুটির ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে।
শীর্ষ দশে ইউরোপের তিন দেশ সূচকের শীর্ষ দশে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি ও পর্তুগাল। তালিকায় ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান সপ্তম, হাঙ্গেরির অষ্টম এবং পর্তুগালের নবম। এ ছাড়া ষষ্ঠ স্থানে ভিয়েতনাম এবং দশম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
হোলাফ্লাইয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মেটিন কাস্ত্রোর ভাষ্য, বিদেশে পৌঁছানো সহজ হলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক জটিলতা, কাজের সময় নষ্ট হওয়া এবং অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট দূর থেকে কাজ করা পেশাজীবীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এসব অদৃশ্য বাধা তুলে ধরতেই গবেষণাটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্র: ইউরো নিউজ
জ/উ