সুন্দরবনে ভারতীর অংশে ফাইভ-স্টার ট্রি-হাউস রিসোর্টের পরিকল্পনা

জবাবদিহি ডেস্ক

ভ্রমণ

2026-09-16T18:48:46+06:00
2026-09-16T18:54:27+06:00
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
ভ্রমণ
সুন্দরবনে ভারতীর অংশে ফাইভ-স্টার ট্রি-হাউস রিসোর্টের পরিকল্পনা
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম  আপডেট: ১৬.০৯.২০২৬ ৬:৫৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে ফাইভ-স্টার পরিবেশবান্ধব ট্রি-হাউস রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি কম শব্দের উড়োজাহাজে আকাশপথে বাঘ দেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

গত রোববার সুন্দরবন সফরে গিয়ে গোসাবায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা জানান পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, সুন্দরবনে ৮ থেকে ১০টি জনবসতিহীন দ্বীপ রয়েছে। এসব দ্বীপে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ফাইভ-স্টার ইকো-ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশবান্ধব ট্রি-হাউস রিসোর্ট নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দ্বীপগুলোর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হতে পারে। আবার সরকার চাইলে স্থায়ীভাবেও জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এসব এলাকায় কোনো ধরনের কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।

মিঠুন জানান, সেখানে ফাইভ-স্টারের নিচে কোনো রিসোর্ট নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন, মূলত সে লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব রিসোর্টে কর্মরত মোট জনবলের ৮০ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি রিসোর্টে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন স্থানীয় তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে সুন্দরবনে এমন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে পরিবেশকর্মীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় সবার আগে এর পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তা না হলে সুন্দরবনের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনের উন্নয়ন পরিকল্পনা করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, পরিবেশ ও বনসংক্রান্ত আইন মেনেই সুন্দরবনের উন্নয়ন করতে হবে। পুরো কার্যক্রমই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্যের নতুন সরকার। এর পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবেই শনিবার সুন্দরবন সফরে যান মিঠুন।

সেদিন গোসাবার একটি পাঁচতারা হোটেলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন দপ্তরের সচিব, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, স্থানীয় বিধায়ক এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার গোসাবায় একটি লঞ্চে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিঠুন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর।

বাঘ দেখানোর জন্য আকাশপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিঠুন জানান, গোসাবায় হেলিপ্যাড থাকলেও হেলিকপ্টারের তীব্র শব্দে বাঘের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সরকারি অনুমতি পাওয়া যায় না। তাই কম শব্দের উড়োজাহাজ বা এয়ারক্রাফট ব্যবহার করে আকাশ থেকে বাঘ দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সুন্দরবনের স্থানীয় ধর্মীয় পর্যটনেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে মা মনসা ও বনবিবির মন্দিরগুলো সংস্কার করে একটি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি একটি গ্রামীণ হাট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে সন্ধ্যায় পর্যটকদের জন্য লোকসংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই হাটে সুন্দরবনের খাঁটি মধু ও হস্তশিল্প বিক্রি করতে পারবেন।

এ ছাড়া ডলফিন দেখার জন্য দুটি নতুন জেটি, একটি ম্যানগ্রোভ পরিচয়কেন্দ্র এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নিয়ে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মিঠুন।

পশ্চিমবঙ্গে চলচ্চিত্রের শুটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে শুটিং করলে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। দেশ-বিদেশের যে কেউ পশ্চিমবঙ্গে শুটিং করলে এ সুবিধা পাবেন। এর ফলে সুন্দরবনেও শুটিংয়ের পরিমাণ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষ লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
ভ্রমণ - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]