আত্মরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনীতির পথ ব্যবহারে ইরান আন্তরিক বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় আরাগচি বলেন, ইরান যেমন আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তেমনি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়েও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংঘাতের সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছেন।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। ওই প্রস্তাবের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং এরপর বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় যাওয়ার কথা বলা হয়।
প্রস্তাবটির বিভিন্ন শর্তের মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয় ছিল। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আরাগচি এর আগে বলেছেন, কেবল আলোচনার মাধ্যমেই চলমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি সামরিক সংঘাত পুনরায় বাড়লে ইরান আত্মরক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্রে শর্ত বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
জ/উ