ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা বাংলাদেশের প্রত্যাশা নয়; তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’ এ সভার আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক অভিন্ন নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী এসব নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা থাকা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময়েও বাংলাদেশ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি।
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু পুরোনো চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন করে চুক্তি করতে হবে। পাশাপাশি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের পাশাপাশি যৌথ নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা বছর নদীর ন্যূনতম প্রবাহ ও নাব্যতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব মোকাবিলায়ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে তিনি মত দেন।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সেটিও স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। শুধু অন্যান্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়, গঙ্গার পানি বণ্টনসহ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা করা উচিত এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি; তিনি ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি নিয়ে চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ওই অবস্থানের কারণেই আবরার নির্যাতনের শিকার হন।
আবরার ফাহাদ হত্যার মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে হত্যাকাণ্ডের দণ্ড দ্রুত কার্যকর করা উচিত।
জ/উ