‘কুফরি কালাম’ অপবাদে তিন নারীকে জুতার মালা পরানোর অভিযোগ

গুরুদারপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-10-06T18:16:34+06:00
2026-10-06T18:16:34+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
‘কুফরি কালাম’ অপবাদে তিন নারীকে জুতার মালা পরানোর অভিযোগ
গুরুদারপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
⏲ ৬:১৬ পিএম | ৬ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
ফাইল ছবি
নাটোরের গুরুদাসপুরে ‘কুফরি কালাম’ করার অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল কর্মী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে একটি ঘরে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযুক্ত যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও তাঁর ভাই ইয়ারুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়ার এক ভাতিজি অসুস্থ হওয়ার পর ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে ‘কালো জাদু’ বা ‘কুফরি কালাম’ করার অভিযোগ তোলা হয়। এরপর তাঁদের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের মারধর এবং প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে মহল্লায় ঘোরানো হয়। পরে তাঁদের একটি ঘরে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

তিন নারীর দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ‘কুফরি কালাম’ করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের বিরুদ্ধে এ অপবাদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য আলাদা। ইয়ারুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ওই নারীরা একজন কবিরাজের মাধ্যমে তাঁর মেয়ের ওপর ‘কুফরি কালাম’ করেছেন। এরপর থেকেই তাঁর মেয়ে শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিন নারীকে মারধর, লাঞ্ছিত করা, গলায় জুতার মালা পরানো কিংবা ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়ারুল ইসলাম বলেন, এসব কাজ মহল্লার লোকজন করেছেন। স্ট্যাম্পের কাগজপত্র তিনি গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন বলেও জানান।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘তিন নারীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো ধরনের কুসংস্কার বা অলৌকিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাউকে অপবাদ দেওয়া এবং সেই অভিযোগে তাঁকে হেনস্তা করার সুযোগ নেই। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত