বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট হচ্ছে সোমবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) শিক্ষা ক্যাডারে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত গেজেট আগামী সোমবার প্রকাশ করা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

2026-10-02T12:05:41+06:00
2026-10-02T12:05:41+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট হচ্ছে সোমবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১২:০৫ পিএম | ২ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি
৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) শিক্ষা ক্যাডারে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত গেজেট আগামী সোমবার প্রকাশ করা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না। নিয়োগপত্র ইস্যুর জন্য প্রজ্ঞাপন জারির কিছু নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত নথি উপস্থাপনের কাজ শেষ করেই আগামী সোমবার বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ এ সময় সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।
গত বুধবার প্রকাশিত ৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে পিএসসির সুপারিশ করা ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ ৫৭ জন বাদ পড়েছেন। তবে তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ কারণে বাদ পড়া ৪৬ জনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেয়ার আগেই বাদ পড়া প্রার্থী অনেকে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অধিকাংশের ধারণা, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে।

গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালও। চূড়ান্ত ফলে সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা নেই।

গেজেটে নাম না দেখে হতাশ বেলাল প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁকে কেন নিয়োগ থেকে বাদ দেয়া হলো? তিনি দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত গেজেটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া ইতিহাস বিষয়ে প্রথম হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল রানাসহ আরও কয়েকজন মেধা তালিকায় ভালো অবস্থানে থেকেও গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে।

৪৯তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জের বুশরা জাহান ঐশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী বিষয়ভিত্তিক মেধাক্রমে ১৪তম হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, গেজেটে তাঁর আগে ১৩তম এবং পরে ১৫তম মেধাক্রমের প্রার্থীর নাম থাকলেও তাঁর নাম নেই।

ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ঐশী জানতে চান, কেন তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে? তিনি দাবি করেন, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। স্থায়ী ঠিকানা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। 

গেজেটে নাম না থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জসিম উদ্দীনও রয়েছেন। তিনি ৪৯তম বিসিএসে ক্যাডার পদে সুপারিশ পেয়েছিলেন। গেজেটে নাম না আসার পর সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে একাধিক পোস্ট দেন। এক পর্যায়ে আত্মাহুতির হুমকি দেয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

জসিমের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একটি হল শাখার কমিটিতে তাঁর ছাত্রলীগের পদে থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তবে জসিমের দাবি, তিনি ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর জসিম পুনর্বিবেচনার আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে তাঁর নামও গেজেটে আসবে।

৪৯তম বিসিএসের আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী রেদওয়ান আহমেদ তাহমিদও গেজেটে নাম না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক এ শিক্ষার্থীর দাবি, তিনি দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ৪৯তম বিসিএসে সফল হন এবং ক্যাডারে চূড়ান্ত সুপারিশ পান। কিন্তু প্রায় ১০ মাস ধরে ভেরিফিকেশন চলার পর তাঁর নাম গেজেটে আসেনি।

তাহমিদের ভাষ্য, ভেরিফিকেশনের সময় পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, তাঁর বাবা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমির। তাঁর দাবি, এ রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া তাঁকে বাদ দেয়ার মতো অন্য কোনো কারণ তাঁর জানা নেই।

পিএসসির সুপারিশের পর গেজেটে নাম না থাকার ঘটনা এবারই নতুন নয়। অতীতে ৪৩তম বিসিএসে ৬৫ জন এবং ৪৪তম বিসিএসে ১৮৬ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত গেজেটে বাদ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৪৮তম বিশেষ বিসিএসেও পিএসসির সুপারিশের পর ২১ জন চিকিৎসক ক্যাডার পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ২৮ থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত পিএসসির সুপারিশ পেয়েও নিয়োগবঞ্চিতদের একটি অংশকে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে পিএসসির সুপারিশ ও চূড়ান্ত নিয়োগের মাঝের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং কোন মানদণ্ডে প্রার্থী বাদ পড়ছেন এ প্রশ্ন বারবার সামনে এসেছে।

সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের যৌক্তিকতা নিয়ে মূল বিতর্কটি মূলত রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই ঘিরে। চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গুরুতর অপরাধ বা আদালতে দণ্ডের তথ্য যাচাই করার কথা পুলিশের। অথচ গোয়েন্দা তথ্যে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত– তা গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ তথ্য চাকরির যোগ্যতার মাপকাঠি হওয়া উচিত কিনা সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

কয়েকজন সাবেক সচিব বলেন, বিসিএস ও সরকারি অন্যান্য চাকরির নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে, প্রার্থীর নিজের বা পরিবারের কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি চাকরি পাবার অযোগ্য হয়ে যান না। সুতরাং, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় কাউকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুলিশ সংস্কার কমিশনও সরকারি ও আধা সরকারি চাকরিতে ভেরিফিকেশনের সময় প্রার্থী বা তাঁর আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নেয়ার সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে জাতীয় পরিচয়পত্রকে চাকরিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই বন্ধের কথা বলা হয়। ভেরিফিকেশন থাকলেও সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

সে সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জানার চর্চা বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল, এ ধরনের প্রক্রিয়া জনপ্রশাসনে রাজনীতিকরণের সুযোগ তৈরি করে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রার্থীর নিজের অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা। 

তাঁর মতে, একজন প্রার্থী রাষ্ট্রবিরোধী বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত কিনা; তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আদালতের দণ্ড রয়েছে কি না এসব তথ্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কিন্তু পরিবারের সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও আচরণের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হলে সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের নীতি প্রশ্নের মুখে পড়ে।


জ/রা


  বিষয়:   বিসিএস  নিয়োগ  প্রজ্ঞাপন  ৪৬ জন 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত