সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি তাঁর কাছেও উপযুক্ত মনে হয়েছে।

2026-09-28T15:48:44+06:00
2026-09-28T16:05:53+06:00
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম  আপডেট: ২৮.০৯.২০২৬ ৪:০৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি তাঁর কাছেও উপযুক্ত মনে হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য তৈরি করা খসড়াটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ও শিক্ষার্থীরা মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সোমবার দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১০ তারিখে সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরবর্তী সভায় সংশ্লিষ্টরা তাদের সুস্পষ্ট মতামত লিখিতভাবে, ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি বৈঠকে জানাবেন। অনেকে লিখিত মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, সেগুলো পাওয়া যাবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের বৈঠকে সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেছেন, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে মতামত নেওয়া এবং মিডিয়া যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা এই আইনে ভিকটিমাইজ না হয়, সে জন্য কিছু সুরক্ষা বা ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার ব্যবস্থা করা। আমরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আইনটি আরও সমৃদ্ধ হবে। মিডিয়াকে লক্ষ্য করে আইনটি করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও করা হবে না। কোনো সাংবাদিক যাতে এই আইনের শিকার হন বা আইনের অপপ্রয়োগ হয়, সেটিও সরকার চায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্র, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার এই প্রস্তাবকে উপযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আরও সুপারিশ আসবে।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি যাতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত মামলাজট বা প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে না থাকেন, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আরও বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়া যাবে। এসব মতামত সমন্বয়ের জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইটি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ কাজ সমন্বয় করবে। এতে সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্যানেল থাকবে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের প্যানেল গঠনের দায়িত্ব আইটি মন্ত্রণালয়ের।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এসব সুপারিশ পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে খসড়াটি আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তখনও সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদে বিলটি গেলেও তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না। সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সব মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি আইন করা হবে, যার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জ/শা 






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]