প্রশাসনের নীরব সমর্থনে দোহাজারী হাজারী দিঘীতে অননুমোদিত বড়শি প্রতিযোগিতা

মোঃ আইয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

দেশজুড়ে

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দোহাজারী হাজারীরদিঘিতে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে লাখ লাখ টাকার বড়শি প্রতিযোগিতা। কোনো নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বা সরকারি অনুমোদন না থাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রশাসনের নীরব সমর্থনে এই প্রতিযোগিতা ও বিপুল অংকের আর্থিক লেনদেন চলছে বলে জানা গেছে।

2026-09-12T15:56:17+06:00
2026-09-12T15:56:17+06:00
শুক্রবার ● ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
প্রশাসনের নীরব সমর্থনে দোহাজারী হাজারী দিঘীতে অননুমোদিত বড়শি প্রতিযোগিতা
মোঃ আইয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
⏲ ৩:৫৬ পিএম | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবার
দোহাজারী হাজারী দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতা
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দোহাজারী হাজারীরদিঘিতে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে লাখ লাখ টাকার বড়শি প্রতিযোগিতা। কোনো নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বা সরকারি অনুমোদন না থাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রশাসনের নীরব সমর্থনে এই প্রতিযোগিতা ও বিপুল অংকের আর্থিক লেনদেন চলছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি গত ১৯ জুন, ২৪ জুলাই, ২১ আগস্ট ও ১১ সেপ্টেম্বর চার দফায় ঐতিহ্যবাহী এই দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ২১ আগস্টের আয়োজনে মোট ৯২টি আসনের ব্যবস্থা রেখে প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৫ হাজার টাকা। কথিত ভিআইপি সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বাণিজ্য করে আয়োজক কমিটি। তবে সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনে আশানুরূপ প্রতিযোগী না মেলায় সিট বিক্রি কম হওয়ায় আয়োজকদের লোকসান হয়েছে বলে জানান দিঘির মালিকের ম্যানেজার।

দিঘির ম্যানেজার মোহাম্মদ আবছার জানান, এবার প্রতিযোগিতায় ১ম পুরস্কার ১৫ লাখ টাকা, ২য় পুরস্কার ৭ লাখ টাকা, ৩য় পুরস্কার ৩ লাখ টাকা, ৪র্থ পুরস্কার ২ লাখ টাকার প্রাইজবন্ডসহ মোট ১৬টি আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সিটের আকাশচুম্বী মূল্য সত্ত্বেও কুমিল্লা ও ফেনীতে একই দিনে প্রতিযোগিতা থাকায় এবার মাত্র ৫৫ জনের অধিক প্রতিযোগী অংশ নেন।

এদিকে লাখ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড ও অর্থ লেনদেনের এই বিশাল আয়োজন নিয়ে চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের কোনো অনুমতিপত্র বা ছাড়পত্র ছাড়াই কীভাবে এত বড় বড়শি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

অনুুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, এই ধরণের অননুমোদিত বা আর্থিক লেনদেনভিত্তিক বড়শি প্রতিযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান এবং থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদারের সাথে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

কোনো সুস্পষ্ট আইনি নীতিমালা না থাকার সুযোগে চার দশক ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে এভাবে কোটি টাকার অননুমোদিত বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর চললেও তা বন্ধে বা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।


জ/বা


  বিষয়:   দেশজুড়ে  চট্টগ্রাম  বড়শি প্রতিযোগিতা 


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত