জেলার কোটালিপাড়া পৌরসভার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত খালটি সুদীর্ঘ কাল ধরে কচুরিপানায় পূর্ণ। খালটি যেমন ব্যবহারের অযোগ্য তেমনি এটি পরিনত হয়েছে মশা উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে ।
কোটালিপাড়া পৌরসভার প্রাণ এই খালটি ঘাঘর ব্রিজের গোড়া থেকে শুরু হয়ে মহুয়া মোড় থেকে পৌরসভার সামনে দিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের মোড় দিয়ে কয়েকটি দিকে প্রবাহিত হয়েছে। খালটির আসল নাম এখন আর কেউ বলেনা। অনেকে মনেও করতে পারে না খালটির নাম। তবে খালটি যে গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে সচেতনতা রয়েছে পৌরবাসীর।
দীর্ঘদিন যাবৎ কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় খালটি এখন মশা উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে পরিনত হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা বলছে। মশার জ্বালায় অতিষ্ট কোটালিপাড়া পৌরসভার বাসিন্দা রত্না আক্তার (৩৬) নামে একজন গৃহবধূ বলেন, আমরা মশার উৎপাতে যারপর নাই হতাশ। মশার কামড়ে আমরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি।
মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ছেলেমেয়েরাও শংকিত। মশার কামড়ে বাচ্চাদের পড়াশোনায় মন বসানো মুস্কিল হয়ে যায়। মশার উপদ্রব কমাতে কোটালিপাড়া পৌরসভার খালটি কচুরিপানা মুক্ত করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো উদ্যোগ নেয় নাই বলে জানিয়েছেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাজীব ভক্ত।
তিনি বলেন, আমি কোটালিপাড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজে যোগদান করার পর কারো মুখে শুনি নাই যে এই খাল থেকে কচুরিপানা নিধন করে পৌরসভার সৌন্দর্য বর্ধন করার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধ করা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়টি শীঘ্রই বিবেচনা করবো যাতে খালটি থেকে কচুরিপানা নিধন করার উদ্যোগ নেয়া যায়।
কোটালিপাড়া পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিযুষ কান্তি বলেন, আমি ২০২৩ সালে কোটালিপাড়া পৌরসভায় যোগদান করেছি। কেউ কখনো বলেনি যে পৌরসভার সামনের খালটি সংস্কার করা প্রয়োজন। তবে এখন খালটি পরিষ্কারের মাধ্যমে মশামুক্ত করে কোটালিপাড়া পৌরবাসীর জীবন স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। কোটালিপাড়া পৌরসভার উন্নয়ন ব্যায় থেকে খালটির কচুরিপানা নিধন কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ করার বিষয়ে আমি পৌর প্রশাসকের সাথে কথা বলে দেখবো। আশা করি এ সমস্যার সমাধান করা শীঘ্রই সম্ভব হবে।