জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-09-01T17:42:54+06:00
2026-09-01T17:42:54+06:00
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আইন-আদালত
প্যাডেল রিকশা বন্ধসহ তিন দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম 
সারাদেশে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন। অথচ এই অল্পসংখ্যক মানুষের ব্যবহৃত গাড়ি সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রাখে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, প্রাইভেটকার থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া বায়ুদূষণ বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা সংবিধান স্বীকৃত জীবনের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে প্রাইভেটকারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং উচ্চহারে পরিবেশ কর নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

প্যাডেলচালিত রিকশাকে নোটিশে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের ভাষ্য, চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বাধ্য হয়ে শারীরিকভাবে অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য এই কাজ করছেন। এর ফলে তাদের অকাল বার্ধক্য ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে অবিলম্বে প্যাডেল রিকশা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে স্থানীয় পরিবহনের একটি মানবিক ও আধুনিক মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষ গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধ না করে এর গতি, ব্রেকিং ব্যবস্থা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

ব্যাটারিচালিত রিকশায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনো অপচয় হচ্ছে না। দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা যায়, তাহলে ‘জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন’ বা ডকট্রিন অব প্রপোরশনালিটির দৃষ্টিতে তা ন্যায়সঙ্গত।

নোটিশে বেকারত্ব কমানো এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার ও মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবাকে উৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষায় প্রাইভেটকারের সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি গণপরিবহন ও নিরাপদ রিকশাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নোটিশদাতা।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]