ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম নূরুজ্জামান। শুনানিতে তিনি বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও দখল পুনরুদ্ধারের মতো বিচারিক প্রকৃতির বিষয়ে নির্বাহী বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেওয়ানি আদালতের বিচারিক এখতিয়ারের সমান্তরালে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, আইনটির চ্যালেঞ্জকৃত বিধানগুলো সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের নীতি, ২৭ অনুচ্ছেদের আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ৩১ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও আইনানুযায়ী আচরণ লাভের অধিকার এবং ৪২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত নাগরিকের সম্পত্তির অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের প্রশ্নও শুনানিতে তুলে ধরা হয়।
রিটকারীর আইনজীবী আরও বলেন, একই সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন বিরোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে দখল নির্ধারণ ও পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা দেওয়া হলে একই বিষয়ে দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, যা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের সাংবিধানিক ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিচারিক পর্যালোচনার দাবি রাখে।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
জ/বা