আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অংশ নিচ্ছেন।
এবারের সম্মেলনে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ইরান চাইছে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্রিকসের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক। তবে ব্রিকসের সিদ্ধান্ত সাধারণত সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়ায় এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এবারের সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর অবস্থানও বেশ বৈচিত্র্যময়। রাশিয়া ও চীন কৌশলগত মিত্র হলেও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও কিউবাসহ কয়েকটি নতুন দেশের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নেবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পাশাপাশি লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে মিসরের সুয়েজ খালের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতও সম্মেলনকে নিজেদের কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ ও অবস্থানের দেশগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে রেখে মতৈক্য ধরে রাখাই ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্মেলনে বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কীভাবে তুলে ধরা হয়, সেটিই থাকবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়। বিভিন্ন মতপার্থক্য সত্ত্বেও বিশ্বনেতারা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে তা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
জ/উ