আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা নর্থ ক্যারোলাইনার রোয়ানোক দ্বীপের ‘নিখোঁজ উপনিবেশ’। প্রায় ১১৫ জন ইংরেজ সেখানে বসতি স্থাপন করলেও কয়েক বছর পর ফিরে এসে তাদের কোনো সন্ধান পাননি অভিযাত্রীরা। রেখে যাওয়া একমাত্র উল্লেখযোগ্য সূত্র ছিল একটি কাঠের খুঁটিতে খোদাই করা শব্দ—‘ক্রোয়াটোয়ান’।
১৫৮৪ সাল থেকে ইংল্যান্ডের তিনটি অভিযান নর্থ ক্যারোলাইনার রোয়ানোক দ্বীপে স্থায়ী বসতি গড়ার চেষ্টা করে। পরে ১৫৮৭ সালে জন হোয়াইট প্রায় ১১৫ জনকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে নতুন বসতি স্থাপন করেন। একই বছর রসদ সংগ্রহের জন্য তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। তবে স্প্যানিশ আর্মাডার সঙ্গে ইংল্যান্ডের যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তার ফিরে আসতে প্রায় তিন বছর দেরি হয়।
১৫৯০ সালে রোয়ানোক দ্বীপে ফিরে হোয়াইট দেখতে পান, পুরো উপনিবেশ জনমানবশূন্য। সেখানে কোনো মরদেহ বা হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বাড়িঘরের কিছু অংশ দুর্গসদৃশ কাঠামোতে পরিণত হয়েছিল।
তবে একটি কাঠের খুঁটিতে খোদাই করা ছিল ‘ক্রোয়াটোয়ান’ শব্দটি। এটি কাছের একটি দ্বীপের নাম, যা বর্তমানে হ্যাটেরাস আইল্যান্ড নামে পরিচিত। একই নামে ওই অঞ্চলের একটি স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকেও বোঝানো হতো।
হোয়াইট ধারণা করেছিলেন, উপনিবেশবাসীরা হয়তো ক্রোয়াটোয়ান দ্বীপে চলে গেছেন। কিন্তু প্রবল ঝড়ের কারণে তিনি সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাকে ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে হয়। ১৫৯৩ সালে তার মৃত্যু হয়। রোয়ানোকের বাসিন্দাদের পরবর্তী ভাগ্য আর নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ইতিহাসবিদদের একটি ধারণা, খাদ্য ও নিরাপত্তার সংকটের কারণে উপনিবেশবাসীরা অন্য এলাকায় চলে গিয়ে স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। আবার সংঘর্ষে তারা নিহত বা ছত্রভঙ্গ হয়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে রোয়ানোকের রহস্যকে ঘিরে অতিপ্রাকৃত ঘটনা কিংবা ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো নানা কল্পকাহিনি ছড়িয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চার শতাব্দীরও বেশি সময় পরও রোয়ানোকের রহস্যের মূল প্রশ্নের উত্তর মেলেনি—‘ক্রোয়াটোয়ান’ কি ছিল উপনিবেশবাসীদের গন্তব্যের ইঙ্গিত, নাকি নিখোঁজ হওয়ার আগে রেখে যাওয়া শেষ বার্তা? তথ্যসূত্র: ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস
জ/উ