নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রফতানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ খাত পুনর্গঠনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না বলেও তিনি জানান।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনের শুরু থেকেই গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাটির গুণগত মান পরীক্ষা, নিরাপদ পশুখাদ্য নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে উৎপাদনকারী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও রোগমুক্ত প্রাণিজ খাদ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য খাতের বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় ২৪ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখা এবং তাদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে রূপ দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, খামারিদের আয় বাড়ানো, মাংস ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানি সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
জ/উ