প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি।
গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম এবং ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবে তিনি জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি চা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে পরিবার নিয়ে দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে একটি মিশনারি স্কুল এবং পরে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি নামে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। এরপর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া।
১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট অংশ নেয়। অন্য কয়েকটি দল ও জোট বিভিন্ন সময়ে এরশাদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় গেলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সে পথে যায়নি। এ কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর ফখরুদ্দীন আহমদ ও মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি কারাবন্দি হন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
জ/উ