বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে গাইনী কনসালটেন্ট ও ডেন্টাল ইউনিটের অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়াও অসুধেরও তীব্র সংকটও রয়েছে। ইতিমধ্যে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার কথাও জানা যাচ্ছে।
জানাগেছে, সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রায় তিন বছর যাবৎ গাইনী বিভাগে কোন ডাক্তার নেই। গাইনী কনসালটেন্ট ছাড়াই চলছে সোনাতলা হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে সোনাতলাসহ আশেপাশের প্রায় ৪ টি উপজেলার গাইনী রোগীরা পড়েছে বিপাকে। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারসহ অপারেশনের ভালো সুযোগ সুবিধা থাকলেও গাইনী কনসাল্টেন্টের অভাবে এ অঞ্চলের দরিদ্র রোগীরা প্রসবজনিত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহরসহ স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সোনাতলাসহ আশেপাশের উপজেলার দরিদ্র মানুষদের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে অভিজ্ঞ সার্জন স্বাস্থ্য সম্মত ওটি এবং পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় মাঝে মধ্যেই নানারকম দুর্ঘটনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সারিয়াকান্দী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন গাইনি কনসালটেন্ট সপ্তাহে একদিন আসেন। কিন্তু রোগীর সংখ্যা যথেষ্ঠ বেশি হওয়ায় একদিনে এত রোগীকে সেবা দেয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালে ডেন্টাল সার্জন থাকলেও ডেন্টাল ইউনিট না থাকায় এই এলাকার দন্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডেন্টাল ইউনিটের অভাবে দন্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে না পেরে ডেন্টাল সার্জনরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রাচীন আমলের একটি ১০০ এমএ এবং ২০২০ সালে ৩০০ এমএ আরো একটি এক্সরে মেশিন রয়েছে এই হাসপাতালে। দুটি মেশিনই এনালগ এবং পুরাতন। এনালগ এবং পুরাতন হওয়ায় নির্ভূল রোগ নির্ণয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই এনালগ মেশিন দুটিও মাঝে মাঝে বিকল অবস্থায় পড়ে থাকে। বর্তমানে ৩০০ এমএ মেশিনটি অচল অবস্থায় রয়েছে।
রশিদপুর গ্রামের দুর্ঘটনার রোগী তাসলিমা আক্তার মিম জানান যে, অটো রিক্সা দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এক্সরে মেশিন অচল থাকায় তাকে বগুড়া গিয়ে এক্সরে করতে হবে। এছাড়াও তারা প্রেসক্রিপশনে যে অসুধগুলি লেখা হয়েছে তার মধ্যে শুধু এন্টাসিড এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় অসুধ ছাড়া আর কোন অসুধ তিনি পাননি বলে জানান।
দাউদপুর গ্রামের বাহার উদ্দিন জানান তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে এনেছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু গাইনী ডাক্তার না থাকায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যেত হচ্ছে তাকে। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাহলে নিম্নবিত্ত মানুষেরা কি করবে। অবিলম্বে গাইনী বিভাগের ডাক্তার আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এক্সরে টেকনোলজিস্ট মোঃ শাহ বিদারুল ইসলাম বলেছেন, ২০২০ সালে ৩০০ এমএ একটি এক্সরে মেশিন বরাদ্দ আসার পর থেকে ১০০ এমএ এক্সরে মেশিনের পরিবর্তে ৩০০ এমএ এক্সরে মেশিন দিয়ে কাজ চালিয়ে আসছি। ১০০ এমএ এক্সরে মেশিনের চেয়ে ৩০০ এমএ এক্সরে মেশিনের কাজ অনেকটা স্বচ্ছ ও ভালো। কিন্তু গত দুই মাস আগে হঠাৎ করে ৩০০ এমএ এক্সরে মেশিনটি অচল হয়। বর্তমানে এই হাসপাতালে যে পরিমান রোগী আসে তাতে একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন হলে অত্র এলাকার এক্সরে রোগীদের আর বগুড়া যেতে হবে না।
সোনাতলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও সাবেক জেলা দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী বলেন, আমরা সোনাতলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করতে গিয়ে এ বিষয়গুলো দেখতে পাই। ভৌগলিকভাবে সোনাতলা উপজেলা শিবগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, গাবতলী এবং সারিয়াকান্দিও মধ্যবর্তীস্থানে অবস্থিত হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পার্শ্ববর্তী আরো চারটি উপজেলার জনসাধারণকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এখানে যদি ডাক্তার সংকট এবং অসুধ অপ্রতুল হয় তাহলে এলাকাবাসী সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। অবিলম্বে এই সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমীন কবিরাজ বলেন, এসকল বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আমাদের হাসপাতালে যে পরিমান অসুধ বরাদ্দ দেয়া তা যতক্ষণ আমাদের হাতে থাকে আমরা প্রেসক্রিপশন মোতাবেক দিয়ে থাকি। শিবগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা অংশ বিশেষের রোগী চিকিৎসা নিতে এখানে আসে। আমাদের হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ অসুধ কিন্তু আরো চার উপজেলার রোগীদেরও দিতে হচ্ছে। ৩০০ এমএ এক্সরে মেটিশনটি উন্নত মানের। এই মেশিনের সাথে সিআর সংযোগ দিলে ডিজিটাল রূপান্তর হবে। গাইনী কনসালটেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন পরিপূর্ণ একটি ওটি থাকলেও শুধু গাইনী কনসালটেন্ট না থাকায় আমি গাইনী সেবা দিতে পারছি না। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি এই সমস্যাগুলো আশু সমাধান হবে।
জ/বা