সঙ্গীর সঙ্গে খাবার খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তে শর্করা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফ স্টাইল

2026-09-29T21:23:03+06:00
2026-09-29T21:23:03+06:00
বুধবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
লাইফ স্টাইল
সঙ্গীর সঙ্গে খাবার খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তে শর্করা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
⏲ ৯:২৩ পিএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
খাওয়ার সময় সঙ্গী পাশে থাকলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীর কিছুটা ভালোভাবে সাড়া দিতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় ও শেবা মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা এ গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে ৫৪ দম্পতির ১০৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। Earth.com-এর এক প্রতিবেদনে গবেষণাটির এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সব দম্পতিই অন্তত নয় মাস ধরে একসঙ্গে ছিলেন।

গবেষকরা দেখতে পান, সুস্থ ব্যক্তিরা সঙ্গীর সঙ্গে খাবার খেলে একই খাবার একা খাওয়ার তুলনায় তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম বাড়ে এবং দ্রুত কমে আসে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের মোনিয়া মাসালহা ও শির আতজিল।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ১০২ গ্রাম সাদা পাউরুটি দেওয়া হয়, যাতে প্রায় ৫০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ছিল। প্রত্যেক ব্যক্তি একই দিনে দুইবার একই পরিমাণ খাবার খান। একবার একা এবং অন্যবার সঙ্গীকে ঘরে রেখে তারা খাবার খান। বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে এই ক্রম পরিবর্তন করা হয় এবং দুই সেশনের মধ্যে অন্তত চার ঘণ্টার ব্যবধান রাখা হয়।

দম্পতিদের একটি সোফা ও প্রাকৃতিক আলোযুক্ত ঘরে বসানো হয়। তারা চাইলে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে বা স্পর্শ করতে পারতেন।

গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীর সঙ্গে বসে খাওয়ার সময় একা খাওয়ার তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা সামগ্রিকভাবে প্রায় ১৫ শতাংশ কম বাড়ে। আর প্রত্যেক ব্যক্তির প্রথম খাবারের প্রতিক্রিয়া আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সঙ্গীর সঙ্গে খাওয়ার ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ২৪ শতাংশ কম ছিল।

অংশগ্রহণকারীরা এমন সেন্সরও পরেছিলেন, যেগুলো মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে। সঙ্গীর উপস্থিতি শরীরের অন্যান্য প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে কি না, সেটিও পরীক্ষা করেন গবেষকরা।

একটি পরীক্ষায় ১১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি ঠান্ডা ঘরে পাঁচ মিনিট রাখা হয়। এ সময় সঙ্গী সঙ্গে থাকলে অংশগ্রহণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম কমে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

অন্য একটি পরীক্ষায় ১১৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের বাহুতে দুটি হালকা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। যাদের সঙ্গে সঙ্গী ছিলেন, তাদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। তবে একই ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা পরীক্ষায় তুলনা করা হলে এই ফলাফল ততটা স্পষ্ট ছিল না।

গবেষক শির আতজিল বলেন, ‘আমরা গ্লুকোজ, তাপমাত্রা এবং মানসিক চাপের মতো অত্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে একই নীতি লক্ষ্য করেছি, যেগুলো সাধারণত আলাদাভাবে অধ্যয়ন করা হয়।’ তবে সামাজিক সান্নিধ্য থেকে কেউ কেউ বেশি উপকৃত হয়েছেন, আবার কেউ হননি বলেও জানান তিনি।

তবে গবেষণাটি থেকে এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই যে, সঙ্গীর সঙ্গে খেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব বা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাস্থ্যকর রাখা যায়। কারণ গবেষণাটি শুধু খাবারের পর শরীরের স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছে।

আৎজিল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার ক্ষেত্রে প্রতিটি আলিঙ্গন, খাবার বা একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তকে প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা শরীরের নিয়ন্ত্রণ সহজ করে তুলতে পারেন, যা ওই মুহূর্তে বিপাকীয় সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে গবেষণায় শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং তা থেকে পুনরুদ্ধারের সময়কার তাৎক্ষণিক প্রভাব পরিমাপ করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিভেদে এই সুবিধা কতক্ষণ স্থায়ী হয়, তা এখনো জানা যায়নি।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত