কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। কলম্বিয়া সরকারের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে শক্তিশালী এই ভূমিকম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনবিরল প্রদেশ চোকোর সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। এর গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার।
উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে হলেও রাজধানী বোগোতাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভূমিকম্পের কারণে রাজধানীর পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বোগোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়েছে।
বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিসারালদা প্রদেশে ৬০ জন, ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ থেকে ৩৫ জন, চোকো প্রদেশে ৯ জন, মানিসালেসে ৩ জন, কালদাসে ২ জন এবং অ্যানতিওকিয়ায় ১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য এলাকার হতাহতের তথ্য এখনো সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে, ভূমিকম্পের মাত্র কয়েকদিন আগে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারের সামনে এটিই প্রথম বড় ধরনের সংকট।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। রাজধানী বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার সমন্বিত কমান্ড পোস্ট থেকে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ সংকটে কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারাও কম্পন অনুভব করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আরও চলছে।
জ/শা